গোপাল সিং, খোয়াই, ২৮ মার্চ || ‘তিপ্রা মথাতে ভোট করলে, বিজেপিতে চলে যাবে। আমরা হলাম ট্রেন গাড়ি, মথা হলো টমটম গাড়ি।’— বক্তা জনজাতি কল্যান দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। খোয়াইয়ের ৯ হালহালি-আশারামবাড়ী কেন্দ্রের অন্তর্গত বাচাইবাড়ী কমিউনিটি হলে আয়োজিত যোগদান সমাবেশের মঞ্চ থেকে এভাবেই তিপ্রামথা পার্টিকে কটাক্ষ করলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা।
বিকাশ দেববর্মার মতে, ভারতীয় জনতা পার্টির আশারামবাড়ী মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত মেগা যোগদান সভা শুধু সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনই নয়, বরং জনজাতি সমাজের রাজনৈতিক মনোভাবের পরিবর্তনেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল। তিনি সভা থেকে তিপ্রামথা পার্টির প্রার্থী প্রশমিত দেববর্মাকেও হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশমিত বাবু সাবধান! ভারতীয় জনতা পার্টি হিংসায় বিশ্বাস করেনা। কিন্তু গুন্ডাগিরি করলে, এটারও হিসাব হবে।’
এদিকে আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় জনজাতি মোর্চার সভাপতি ও সাংসদ সমীর ওরাং, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রার্থী অনন্ত দেববর্মা, জেলা সভাপতি বিনয় দেববর্মা, জেলা সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সভাপতিত্ব করেন আশারামবাড়ী মন্ডল কমিটির সভাপতি জয়ন্ত দেববর্মা।
এই সভার মূল আকর্ষণ ছিল বৃহৎ আকারের যোগদান পর্ব। রাজেশ দেববর্মা, তাপস দেববর্মা এবং রিমা দেববর্মার নেতৃত্বে ৩১৫টি পরিবারের মোট ১১১২ জন ভোটার ত্রিপুরা মথা দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। দলীয় সূত্রে দাবি, তিপ্রামথা পার্টির প্রায় ৯৯ শতাংশ স্থানীয় নেতৃত্বই এই দিনে বিজেপির পতাকা তলে আসেন।
যোগদানকারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ দেববর্মা ও রিমা দেববর্মা জানান, আঞ্চলিক রাজনীতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি নতুন ত্রিপুরা গঠনের লক্ষ্যেই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি যারা এখনও বাইরে রয়েছেন, তাঁদেরও এই উন্নয়নের ধারায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বরা দাবি করেন, আগামী দিনে টিটিএএডিসিতে বিজেপির নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হবে এবং তিপ্রামথা পার্টির রাজনৈতিকভাবে চতুর্থ স্থানে নেমে আসবে, এমনকি কোনও আসনও পাবে না।
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা তাঁর বক্তব্যে বলেন, জনজাতি সমাজ এখন আবেগনির্ভর রাজনীতির বাইরে এসে বাস্তব উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিগত সময়ে টিটিএএডিসিতে যারা দায়িত্বে ছিল, তারা উন্নয়নের পরিবর্তে মানুষের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করেছে।
সভা থেকে বিজেপির ভবিষ্যৎ রূপরেখাও তুলে ধরা হয়। দলীয় নেতৃত্ব জানায়, শক্তিশালী সরকার গঠন করে ১২৫তম সংশোধনী বিল বাস্তবায়ন, ৫০টি আসন নিশ্চিতকরণ এবং ডাইরেক্ট ফান্ডিং চালুর মাধ্যমে প্রকৃত উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
