কল্যাণপুরে বইছে উন্নয়নের জোয়ার! কিন্তু জরাজীর্ণ ট্রাফিক পোস্টে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন পুলিশকর্মীরা

গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ এপ্রিল || কল্যাণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্থানীয় বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরীর দূরদর্শী নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। স্কুল, অফিস থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট ও অলিগলির আধুনিকীকরণে বিধায়কের প্রচেষ্টা জনমানসে প্রশংসিত হচ্ছে। এমনকি জাতীয় সড়কের একটি অংশও খুব শীঘ্রই কল্যাণপুরের বুক চিরে প্রসারিত হতে চলেছে। তবে উন্নয়নের এই জয়যাত্রার মাঝে কল্যাণপুর সহ গোটা খোয়াই জেলার বিভিন্ন ট্রাফিক ইউনিটেরই দৈন্যদশা এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একদিকে যেমন কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্রাফিক পোস্টটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তেমনি খোয়াই জেলার অধিকাংশ ট্রাফিক পোস্টেরই একই দশা। স্থানীয়দের মতে, বহু বছর আগে নির্মিত এই ট্রাফিক পোস্টগুলো এখন সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ। কল্যানপুরের এই ট্রাফিক পোস্টটিতে মরিচিকা ধরা নড়বড়ে লোহার কাঠামো আর খসে পড়া টিনের ছাউনির নিচে বসেই দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশকর্মীরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভেতরে জল ঢুকে পড়ে, যা আসন্ন বর্ষার মরশুমে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার হাতছানি থাকলেও বাধ্য হয়েই এই বিপজ্জনক কাঠামোর নিচে আশ্রয় নিতে হচ্ছে কর্তব্যরত কর্মীদের।
হাজার হাজার যাত্রীর আনাগোনা আর ছোট-বড় যানবাহনের অবিরাম চাপে কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ড এলাকাটি সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তীব্র রোদ কিংবা প্রবল বৃষ্টি—সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয় পুলিশকর্মীদের। কিন্তু পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত সিগন্যাল ব্যবস্থা বা সিসিটিভি নজরদারির অভাব কাজটিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। স্থানীয় জনগণের দাবি, যারা দিনরাত পরিষেবা দিচ্ছেন সেই পুলিশকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।
এই বিষয়ে কল্যাণপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) ইন্সপেক্টর আশীষ সরকার জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যেহেতু কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ডের ওপর দিয়ে জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে, তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান ট্রাফিক পোস্টটি খুব দ্রুতই অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে জনগণের মতে, উন্নয়নের জোয়ারে যখন চারিদিক সেজে উঠছে, তখন এই ট্রাফিক ইউনিটের অসহায় অবস্থা কতদিনে ঘুচবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*