সাহিত্যের অঙ্গনে ১৪৩৩ বর্ষবরণের ছোঁয়া: নববর্ষের সন্ধ্যায় ১৮ জন কবিকে ‘ধীরেন্দ্র নাথশর্ম্মা স্মৃতি সাহিত্য সম্মাননা’ প্রদান

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৬ এপ্রিল || পহেলা বৈশাখের এক স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় খোয়াইয়ের বুকে ক্ষুদ্র কিন্তু রুচিশীল আয়োজনে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। সাহিত্যের নব দিগন্তে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে উঠল আজকের এই বিশেষ গোধূলি বেলা। ‘আজকের ভাষা সাহিত্য পত্র’-এর রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এদিন প্রদান করা হলো ‘ধীরেন্দ্র নাথশর্ম্মা স্মৃতি সাহিত্য সম্মাননা-২০২৬’।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বর্গীয় ধীরেন্দ্র নাথশর্ম্মার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপস্থিত গুণিজনেরা। এরপর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে উন্মোচিত হয় ‘আজকের ভাষা সাহিত্য পত্র’-এর বিশেষ ফোল্ডার। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুই গুণী কবির নবপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর। কবি সুব্রত আচার্য ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শান্তি দাস তাঁদের একক কবিতা সংকলন দুটি, সম্পাদক দীপেন নাথশর্ম্মা-র হাতে তুলে দেন।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এদিন নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে মোট ১৮ জন কবির হাতে স্মৃতি সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা প্রাপকদের তালিকায় ছিলেন— অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক এবং একাধারে বাচিক শিল্পী ও কবি মনোজিৎ দত্ত, অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক ও রাজ্যের স্বনামধন্য হাসির রাজা বলে খ্যাত পার্থ চক্রবর্তী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কবি মলয় চক্রবর্তী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং প্রাক্তন সাংবাদিক প্রিয়তোষ ঘোষ এবং শিক্ষিকা করুণা দেবনাথ। ছিলেন কবি রেখা দত্ত, সুব্রত আচার্য, সাংবাদিক ও কবি যশপাল সিং, কবি রাজীব আচার্য, সুমিতা রায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শান্তি দাস, কবি বিপ্লব পাল, গৌতম অধিকারী, অনিমেষ ঋষিদাস, সুব্রত দেব, রাখী পাল, কবি ও হাস্যকৌতুক শিল্পী শিখা রায়, নাট্যশিল্পী ও কবি সৌরপ্রতীম শর্মা।
সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি কবি ও শিক্ষিকা করুণা দেবনাথ উপস্থিত সকল কবিদের হাতে ‘কলমাস্ত্র’ (কলম) তুলে দিয়ে তাঁদের আগামীর সৃজনশীল যাত্রাকে উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানের সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেন সুমিতা রায় ও অন্যান্য কবিদের সম্মিলিত কণ্ঠের সুমধুর সঙ্গীত। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একে একে কবিরা তাঁদের স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে এক মায়াবী কাব্যিক পরিবেশ তৈরি করেন।
‘আজকের ভাষা সাহিত্য পত্র’-এর সম্পাদক দীপেন নাথশর্ম্মা-র এই নিরলস উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। তাঁদের মতে, এই ধরণের ক্ষুদ্র পরিসরের অনুষ্ঠানগুলোই মফস্বলের সাহিত্য চর্চাকে বাঁচিয়ে রাখতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*