গোপাল সিং, খোয়াই, ১৪ এপ্রিল || খোয়াই মহাদেবটিলায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছরও চৈত্র সংক্রান্তির দিনে হচ্ছে চড়ক মেলা। খোয়াইতে যতগুলি চড়ক মেলার আয়োজন হয়, সর্বত্রই জুয়ার আসর বসে বলে অভিযোগ জনসাধারণের। চড়ক মেলাকে ঘিরে জুয়ার আসরের রমরমা একদিন আগে থেকেই শুরু হয়। যেমনটা হয়েছে মহাদেবটিলায় চড়ক মেলার ক্ষেত্রেও। কিন্তু জনগণ অভিযোগ করলেই পুলিশ একশন নেয়, তাছাড়া জুয়া চলে তার নিজস্ব কায়দায়। যদিও এবার জনগণ প্রদত্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে জুয়ার সামগ্রী ও নগদ টাকা সহ পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুই জুয়ারী। কিন্তু রাতেই একজন জুয়ারী অসুস্থ হয়ে পড়লে খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকারের নেতৃত্বে খোয়াই থানার এসআই ফ্রান্সিস হালাম, খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি রঞ্জিত সরকার সহ পুলিশ কর্মীরা উক্ত জুয়ারীকে চিকিৎসা পরিসেবার আওতায় এনে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। পরে রাত তিনটা নাগাদ সেই জুয়ারীকে বাড়ি পৌছে দেওয়া হয়। উক্ত ঘটনায় একদিকে জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের দৃঢ় অবস্থান যেমন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি পুলিশের মানবিক মুখও আরও একবার সমাজের সামনে ফুটে উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ জুয়ার আড্ডায় হানা দিয়ে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে একটি বিশেষ দল সোনাতলা সংলগ্ন ভবতোষ পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। উক্ত অভিযানে পুলিশ ৬টি ডাইস এবং জুয়ার বোর্ড থেকে নগদ ৭৭০ টাকা উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃত দুই জুয়াড়ি হলো: টুটন সাহা (৩৫), পিতা- মৃত নিখিল সাহা এবং মনোরঞ্জন শীল (৩৯), পিতা- মৃত মন্টু শীল।
দুজনেরই বাড়ি খোয়াই থানার অন্তর্গত সোনাতলা ভবতোষ পাড়া এলাকায়।
শহরের সচেতন মহলের অভিযোগ, চড়ক মেলার সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু চক্র জুয়া ও নেশার রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভবতোষ পাড়া ও সোনাতলা এলাকায় রাতের অন্ধকারে এই ধরণের কারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহকুমা জুড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এই ধরণের অবৈধ কার্যকলাপ সমূলে বিনাশ করতে আগামী দিনেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
