এডিসি-র নিয়োগ বিতর্ক: বিরোধীদের তোপ দেগে বুবাগ্রার পাশে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, ‘আঁতাত’-এর অভিযোগ বিজেপি-সিপিআই(এম)-র বিরুদ্ধে

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৯ এপ্রিল || টিটিএএডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত পাহাড়ের রাজনীতি। গত ১৭ই এপ্রিল ফলাফল ঘোষণা এবং ২৭শে এপ্রিল নবনির্বাচিত এমডিসি-দের শপথ গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে ১২০ জনের রহস্যজনক নিয়োগ ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। কোনো বিজ্ঞাপন বা ইন্টারভিউ ছাড়াই এই নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। এমনকি রাজ্যপালের কাছে এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে ডেপুটেশনও দিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে এবার সামাজিক মাধ্যমে বিরোধীদের কড়া জবাব দিলেন তিপ্রামথা পার্টির হেভিওয়েট বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এডিসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বুবাগ্রা প্রদ্যুৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মা ইতিপূর্বেই ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। বুবাগ্রা জানিয়েছেন, তিনি হয় প্রয়োজনীয় নিয়োগগুলো আইনত সম্পন্ন করবেন, নতুবা পুরো প্রক্রিয়াটিই বাতিল করে দেবেন। রঞ্জিত বাবু মনে করিয়ে দেন যে, এডিসি-র মন্ত্রিসভা বা ‘ফর্মেশন’ এখনও গঠিত হয়নি। নবনির্বাচিত এমডিসি-রা কেবল শপথ নিয়েছেন; এখনও পর্যন্ত কোনো চেয়ারম্যান, সিইএম (CEM) কিংবা ইএম (EM) নিযুক্ত হননি। মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই কার্যনির্বাহী কমিটির (EC) বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিরোধী দলগুলোকে আক্রমণ করে বিধায়ক অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং সিপিআই-এম নেতারা নিজেদের মধ্যে গোপন আঁতাত বা ‘চুক্তি’ করে রাজ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ নিয়ে বিজেপি কেন নীরব? এডিসি-র বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও বুবাগ্রা অতীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তিনি স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন বলে বিধায়ক দাবি করেন।
ছাত্রসমাজের প্রতি আবেদন জানিয়ে রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, “আপনারা বুবাগরার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। মিথ্যা প্রচারে কান দেবেন না। নবগঠিত এডিসি সরকার ‘তিপরাসা’ জনগোষ্ঠীর আগামী প্রজন্মের কল্যাণে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।” তিনি আরও যোগ করেন, তিপরাসা মানেই জনগণ, আর বুবাগ্রা মানেই সেই জনগণের প্রতিফলন। নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে বিরোধীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে তারা আর মুখ দেখানোর জায়গা পাবে না বলেও তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন।
নিয়োগ বিতর্ক ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ এবং বুবাগ্রার স্বচ্ছতার বার্তায় পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২৯শে এপ্রিলের বৈঠক এবং পরবর্তী মন্ত্রিসভা গঠনের পর এই নিয়োগ বিতর্কের জল কোন দিকে গড়ায়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*