দুই ত্রিপাক্ষিক চুক্তি রূপায়ণে কেন্দ্রের অনীহাঃ কেন্দ্র ও রাজ্যকে সঠিক পদক্ষেপের আহ্বান বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার

ফাইল ছবি।

গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ জুন || ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক দুটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান নিয়ে এবার সামাজিক মাধ্যমে সরব হলেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তাঁর এই আহ্বানে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দুই বছর আগে সম্পাদিত এই চুক্তির শর্তাবলি পূরণে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে এবার সরাসরি আবেদন জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর কেন্দ্র সরকার, ত্রিপুরা রাজ্য সরকার এবং দুই নিষিদ্ধ সংগঠন এনএলএফটি (NLFT) ও এটিটিএফ (ATTF)-এর মধ্যে দুটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তিগুলির অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর ভূমি ও রাজনৈতিক অধিকার সুনিশ্চিত করা, যার লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের সাথে এই অধিকার প্রয়োগের বিষয়ে কোনো সদর্থক আলোচনা হয়নি। বিশেষ করে চুক্তির ২৪ ও ২৫ নম্বর শর্তে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া উল্লেখ ছিল, সেগুলো পূরণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
সম্প্রতি আত্মসমর্পণকারী সংগঠনের সদস্যদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বিধায়ক। সেই আলোচনার সূত্র টেনে তিনি আজ আহ্বান জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এই দুই ত্রিপাক্ষিক চুক্তির সমস্ত শর্তাবলি যেন শীঘ্রই পূরণ করেন।
যদিও বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গঠিত ‘যৌথ কার্যনির্বাহী গোষ্ঠী’ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন না ঘটায় সমস্যা বাড়ছে। এমতাবস্থায় বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা আজ আবারও আহ্বান জানাতে গিয়ে লিখেন—’কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যকার এই চুক্তি ও সমঝোতাগুলো যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কী করণীয়? ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ বলতে ঠিক কী বোঝায়?’ ঠিক এখানেই সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়। তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে ত্রিপক্ষীয় রাজনৈতিক অলিন্দে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*