সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে খোয়াইয়ের যুবতী, ওড়িশা পাচারের মাস্টারপ্ল্যান ভেস্তে দিল পুলিশ, ধৃত এক যুবক সহ বহি:রাজ্যের যুবতী

গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ জুন || মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুত্বের জের কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত ও চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলল খোয়াইতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক আইডেন্টিটির (ছদ্মপরিচয়) আড়ালে থাকা মুখোশধারী চক্রের ফাঁদে পড়ে খোয়াইয়ের এক যুবতীকে ভিনরাজ্যে পাচার করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। তবে শেষরক্ষা হলো আসামের গুয়াহাটিতে। ওড়িশা পাচারের সেই মাস্টারপ্ল্যান ভেস্তে দিয়ে জগতপুর (জগতবাড়ী) থানার পুলিশ ও খোয়াই পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ওই যুবতীকে। এই অপহরণ ও পাচার চক্রে জড়িত থাকার অপরাধে এক বহিঃরাজ্যের যুবতী এবং খোয়াইয়ের এক যুবকসহ মোট দু’জনকে আজ আদালতে তোলা হয়েছে। মামলা নম্বর: 2026/WKH007, তারিখ: 26-05-2026, আইনি ধারা: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS 2023)-এর 137-2/3/5 ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৬শে মে ২০২৬ ইং তারিখে খোয়াই মহিলা থানায় ওই যুবতীর নিখোঁজ হওয়ার একটি ডায়েরি করা হয়েছিল। ঘটনার প্রাথমিক গতিপ্রকৃতি অপহরণের দিকে ইঙ্গিত করলেও, খোয়াই মহিলা থানা প্রথম দিকে বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে। পুলিশের এই ঢিলেঢালা তদন্ত প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়েই নিখোঁজ যুবতীটিকে ফাঁদে ফেলে ত্রিপুরা থেকে গুয়াহাটি হয়ে ওড়িশা পাচার করার চূড়ান্ত ছক কষে ফেলে বহিঃরাজ্যের এক প্রতারক যুবতী।
পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি জোরালোভাবে প্রকাশ পেতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শুরু হয় সাঁড়াশি তল্লাশি। গত সোমবার গুয়াহাটি রেল স্টেশন থেকে ওই প্রতারক যুবতীসহ খোয়াইয়ের নিখোঁজ যুবতীকে হাতেনাতে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই উদ্ধারকার্যে গুয়াহাটির জগতপুর থানার পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে, এই নাবালিকা/যুবতী অপহরণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ খোয়াই ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রাজেশ দাস (বাবু) নামে এক যুবককেও আটক করেছে। ধৃত যুবক খোয়াই পৌর পরিষদের কর্মী বলে জানা গেছে। পুলিশি সূত্রের খবর, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এই চক্রে তার প্রত্যক্ষ যোগ মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ ধৃতদের খোয়াই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমান সময়ে মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচতে যুব সমাজ এবং বিবাহিত দম্পতিদের আরও অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সন্তানদের মোবাইল আসক্তি কমাতে এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*