চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে রেল ও সড়ক অবরোধ, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার আন্দোলন

গোপল সিং, খোয়াই, ১২ জুন || ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির আওতায় ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ পুনর্বাসন প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আত্মসমর্পণকারী NLFT ও ATTF সদস্যদের যৌথ মঞ্চ ১২ জুন সকাল থেকে ৭২ ঘণ্টার রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। খোয়াই ও তেলিয়ামুড়া সংলগ্ন বড়মুড়া পাহাড়ের পাদদেশকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার সকাল থেকেই রেলপথ অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজের সুফল এখনও মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে তাঁদের দাবি।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা-র নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁদের বিভিন্ন দাবি ও উদ্বেগের বিষয় শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
আলোচনার পর জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সাংবাদিকদের জানান, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনর্বাসনের জন্য ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। তবে প্যাকেজের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়া প্রয়োজন। সরকার বারবার সেই প্রস্তাব চাইলেও এখনও তা জমা দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শান্তি চুক্তির প্রায় দুই বছর পরও বাস্তব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে। দ্রুত পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতেই তাঁরা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বলে জানান।
দীর্ঘ আলোচনার পর সরকারের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেন। ফলে রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের নেতারা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুনর্বাসন প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের আবহেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খোলা থাকায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*