জটিল রোগে আক্রান্ত সাংবাদিকের পাশে বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, চিকিৎসার জন্য নিজের সাম্মানিক ভাতা থেকে দিলেন ৩০ হাজার টাকা

গোপল সিং, খোয়াই, ১৫ জুন || ‘জনগণের সেবাই শেষ কথা, রাজনীতি সেখানে গৌণ’—এই মূলমন্ত্রকে পাথেয় করে ফের একবার আর্তের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য মানবিকতার নজির গড়লেন কল্যাণপুর-প্রমোদনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জনপ্রিয় বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী।
নিজ নির্বাচনী এলাকার গণ্ডী ছাড়িয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত এক অসহায় সাংবাদিকের চিকিৎসার জন্য নিজের সাম্মানিক বেতন ভাতা থেকে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বরাবরের মতো বিধায়কের এই চিরাচরিত মানবিক উদ্যোগ আজ সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের আলোয় আসার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
জানা গেছে, ২৫-খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বনকর এলাকার বাসিন্দা তথা পেশায় সাংবাদিক দেবাঞ্জন নিয়োগী দীর্ঘদিন ধরে পিত্তথলির কঠিন ও জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দিলেও, চিকিৎসার সেই বিপুল খরচের চিন্তায় মধ্যবিত্ত পরিবারটি চরম অসহায়তা ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। কোনো উপায় না দেখে আজ ওই সাংবাদিক বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীর আগরতলা স্থিত বাসভবনে এসে নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কষ্টের কথা জানান।
সাংবাদিক দেবাঞ্জন নিয়োগীর এই চরম সংকটের কথা শুনে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন বিধায়ক। তিনি এটিকে রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সীমানায় না বেঁধে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের পরম কর্তব্য বলে মনে করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তাঁর নিজের সাম্মানিক বেতন ভাতা থেকে ৩০ হাজার টাকার একটি চেক ওই অসুস্থ সাংবাদিকের হাতে তুলে দেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে সব ধরনের আশ্বাস প্রদান করেন।
এই মানবিক সহযোগিতার পর নিজের সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, জনগণ ভালোবেসে যে দায়িত্ব ও আসন তাঁকে দিয়েছেন, তার মূল মন্ত্রই হলো নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করা। মানুষ হিসেবে সংকটে পড়া প্রতিটি নাগরিকের পাশে থাকা এবং সবার মুখে হাসি ফোটানোই তাঁদের সরকারের মূল লক্ষ্য। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে বিধায়ক আন্তরিক প্রার্থনা জানিয়ে লিখেছেন, “ঈশ্বর যেন দেবাঞ্জনকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন, এই কামনাই করি।”
একজন কলম সৈনিকের বিপদে বিধায়কের এই তাৎক্ষণিক সাড়াদান খোয়াই ও কল্যাণপুরের সংবাদমহল সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুণ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*