গোপল সিং, খোয়াই, ১৫ জুন || জীবন ঠিক কী, তা বুঝে ওঠার আগেই মাথার ওপর থেকে সরে গেছে মা ও বাবার স্নেহের বটবৃক্ষ। মা-বাবার আদর-আহ্লাদ, খুনসুটি কিংবা বাবার শক্ত কাঁধে চড়ার মতো মধুর স্মৃতিগুলো মনে ধরে রাখার মতো বয়সও হয়নি যার, সেই নিষ্পাপ শিশুটি আজ সম্পূর্ণ একা ও নিঃস্ব। কল্যাণপুর-প্রমোদনগর বিধানসভা কেন্দ্রের পূর্বচেবরী গাঁওসভার অন্তর্গত এই ছোট্ট শিশুটি আগেই মাতৃহারা হয়েছিল। সম্প্রতি বাবা সুজিত দেবনাথের আকস্মিক ও অকাল প্রয়াণে শিশুটির জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এক চরম ঝঞ্ঝা। চারদিকের এই শূন্যতার মাঝে শিশুটির ভবিষ্যৎ যখন এক গভীর অন্ধকারের মুখোমুখি, ঠিক তখনই ফের একবার দেবদূতের মতো চিরাচরিত মানবিক মুখ নিয়ে এগিয়ে এলেন স্থানীয় বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী।
পিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা এবং এই মাতৃহীন-পিতৃহীন শিশুটির ভবিষ্যৎকে একটি সুন্দর দিশা দেওয়ার তাগিদ নিয়ে আজ শিশুটির জেঠুমশায় সহ বর্তমান অভিভাবকরা কল্যাণপুরের বিধায়কের বাসভবনে ছুটে আসেন। সোমবার যখন সেই অবোঝ ও নিষ্পাপ শিশুটি তার অভিভাবকের হাত ধরে বিধায়কের সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন এক আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিশুটি হয়তো নিজে এখনও ভালো করে অনুধাবন করতে পারছে না যে তার মা-বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।
এই অসহায় খুদে সন্তানটির দিকে তাকিয়ে বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীর মন এক গভীর বেদনায় ভরে ওঠে। তিনি কোনো রাজনৈতিক রঙ কিংবা স্রেফ জনপ্রতিধিত্বের গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ না থেকে, পরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে সাধ্যমতো কিছু আর্থিক সহযোগিতা ওই পরিবারের হাতে তুলে দেন।
একই সাথে এই চরম সংকটের দিনে শিশুটির জীবনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বিধায়ক এক ঐতিহাসিক ও মানবিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ছোট্ট শিশুটি এখন থেকে আর নিজেকে একা ভাববে না। আগামী দিনগুলিতে তার পড়াশোনা, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং জীবনের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সর্বদা একজন প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে তার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন। বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীর এই মহানুভবতা ও মানবিক উদ্যোগ আরও একবার প্রমাণ করল যে, রাজনীতি কেবল ভোটের লড়াই বা ক্ষমতার অলিন্দে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আর্তের সেবাই এর মূল লক্ষ্য। একজন সাধারণ জনপ্রতিনিধি থেকে প্রকৃত ‘জননেতা’ হয়ে ওঠার সোপান এভাবেই রচিত হয়।
