‘দল যখন শূন্যে ছিল, তখন ছিলেন বাবা; আজ দল ক্ষমতায়, বাবা আজ ব্রাত্য!’, প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাসের চিকিৎসার আকুল আর্জি কন্যার

গোপল সিং, খোয়াই, ০৭ জুলাই || “যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি।” ঠিক এই প্রবাদের মতোই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি খোয়াইয়ের প্রবীণ তথা আদি বিজেপি নেতা প্রমোদ রঞ্জন দাস। একসময় খোয়াইয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে তিল তিল করে দাঁড় করালেও, আজ চরম অসুস্থতায় বিনাপয়সায় চিকিৎসা তো দূর অস্ত, দলের পক্ষ থেকে ন্যূনতম খোঁজটুকুও কেউ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থের অভাবে জিবি হাসপাতালে ধুঁকতে থাকা পিতাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবার বাধ্য হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ত্রিপুরাবাসী ও বিজেপি নেতৃত্বের কাছে সাহায্যের কাতর আবেদন জানালেন তাঁর কন্যা ত্রৈনেত্রী দাস (মিঠু)। ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বর্তমান বিজেপি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে একরাশ ক্ষোভ ও জ্বলন্ত প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
২০০৩ সালে যখন খোয়াই জেলায় বিজেপিকে কেউ চিনত না, তখন লোকজনের কটূক্তি ও ব্যঙ্গাত্মক কথা সহ্য করে একক প্রচেষ্টায় সংগঠন তৈরি করেছিলেন প্রমোদ রঞ্জন দাস। প্রতিকূল সময়ে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরার কারণে বহু মানুষ সেসময় তাঁকে ‘পাগল’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব থেকে শুরু করে দলের সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে যিনি ছিলেন অত্যন্ত কাছের ‘প্রমোদ দা’, আজ ক্ষমতায় আসার পর সেই বড় বড় নেতারা তাঁর খোঁজ নেওয়া তো দূর, তাঁকে চেনার সৌজন্যটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।
অর্থের চরম সংকটে ভুগতে থাকা এই প্রবীণ দেশপ্রেমিক আজ আগরতলার জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে তাঁর সঠিক চিকিৎসা করানো পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দলের শীর্ষ স্তরের এই চরম উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ কন্যা ত্রৈনেত্রী দাস স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, যে মানুষটি নিজের জীবনের সোনালী সময় দলকে প্রতিষ্ঠা করতে বিলিয়ে দিলেন, আজ সংকটের দিনে দল তাঁর পাশে নেই। তাই একজন অসহায় সন্তান হিসেবে তিনি খোয়াই সহ সমগ্র ত্রিপুরার বিজেপি নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের কাছে জোড়হাতে অনুরোধ করেছেন, যেন এই কঠিন সময়ে তাঁরা প্রমোদ রঞ্জন দাসের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাঁর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। পোস্টের শেষে সাহায্যের সুবিধার্থে তিনি নিজের একটি মোবাইল নম্বরও (6009157312) সংযুক্ত করেছেন।
ক্ষমতার অলিন্দে এসে দলের পুরনো ও ত্যাগী সৈনিকদের এভাবে ভুলে যাওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা ও শোরগোল শুরু হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*