বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৩ জুলাই || দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার রূপাইছড়ি ব্লকের অন্তর্গত ছাতকছড়ি সেনচন্দ্রপাড়ার এক প্রথমবারের গর্ভবতী নারীর জটিল ‘ব্রিচ’ অবস্থায় সফল ও নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন হয়েছে রূপাইছড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি)। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ফলে মা ও নবজাতক—উভয়েই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই পূর্ণ গর্ভকাল অতিক্রম করার পর তীব্র প্রসব-বেদনা নিয়ে ওই প্রসূতি রূপাইছড়ি পিএইচসি-র জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, প্রসূতির জরায়ুমুখ সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, গর্ভস্থ ভ্রূণটি ‘ব্রিচ প্রেজেন্টেশন’ (Breech Presentation) অবস্থায় ছিল। অর্থাৎ, স্বাভাবিক নিয়মে শিশুর মাথা নয়, বরং নিতম্ব বা পা নিচের দিকে অবস্থান করছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব হিসেবে বিবেচিত।
চিকিৎসা প্রোটোকল অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে রোগীকে সাধারণত উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্র বা ফার্স্ট রেফারেল ইউনিটে (এফআরইউ) স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু প্রসূতির শারীরিক অবস্থা এবং জরায়ুমুখ সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে যাওয়ায় তাঁকে অন্যত্র পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত সময় ছিল না।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রূপাইছড়ি পিএইচসি-র ইনচার্জ মেডিকেল অফিসার ডা. রাহুল দাস এবং মেডিকেল অফিসার ডা. সিজুশ ত্রিপুরার নেতৃত্বে চিকিৎসক দল সেখানেই স্বাভাবিক প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের সঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন নার্সিং অফিসার মিসেস অঞ্জনা সরকার।
চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে একটি সুস্থ কন্যাশিশুর জন্ম হয়। নবজাতকের ওজন ২.৭ কেজি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জটিল ‘ব্রিচ’ প্রসব হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে মা ও শিশু উভয়েই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। প্রসব-পরবর্তী বিশেষ পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁদের পিএইচসি-র পোস্ট-নেটাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক দায়িত্ববোধের ফলে একটি সম্ভাব্য জটিল পরিস্থিতির সফল সমাধান সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
