টানা বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরল সাব্রুমের ‘গোবিন্দ মাঠে’, ২ হাজার একর জমিতে আমন চাষের জোর প্রস্তুতি

বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৩ জুলাই || বর্ষার শুরুতে বৃষ্টির অভাবে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও জুলাই মাসের টানা বর্ষণে স্বস্তির হাসি ফিরেছে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ‘গোবিন্দ মাঠ’-এর কৃষকদের মুখে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এখন প্রায় ২ হাজার একর কৃষিজমিতে আমন ধান চাষের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়েছে।
জুন মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বীজতলা তৈরি ও জমি প্রস্তুতের কাজও ব্যাহত হচ্ছিল। তবে জুলাই মাসের শুরু থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। টানা বৃষ্টিতে নদী-নালা ও জলাশয়গুলো কানায় কানায় ভরে ওঠে। এক সময় সাব্রুমের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ফেনী নদীর জলস্তর রেকর্ড ১৬.৯০ মিটারে পৌঁছে যায়। পর্যাপ্ত জল পাওয়ায় গোবিন্দ মাঠের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন আমন ধান চাষের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে গোবিন্দ মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে ব্যস্ততার চিত্র। কৃষকরা জমি চাষ, মই দেওয়া, চারা রোপণসহ বিভিন্ন কৃষিকাজে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ জমিতে আমন ধানের রোপণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সাব্রুমের ইন্দিরানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রগতিশীল কৃষক বিশ্বজিৎ মজুমদার জানান, “এবার বৃষ্টি আসতে কিছুটা দেরি হলেও এই বৃষ্টিই এখন আমাদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান আবহাওয়া আমন চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। আমরা পূর্ণ উদ্যমে মাঠে কাজ শুরু করেছি। কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ফলন খুবই ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
কৃষি দফতরের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় গোবিন্দ মাঠে এবার আমন ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে চলতি মরসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
দীর্ঘ খরার আশঙ্কা কাটিয়ে বর্ষার এই ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত শুধু কৃষকদের মুখে হাসিই ফেরায়নি, সাব্রুমের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সবার নজর মৌসুমের বাকি সময়ের আবহাওয়ার দিকে। যদি প্রকৃতি সহায় থাকে, তবে চলতি বছরে গোবিন্দ মাঠ আবারও সমৃদ্ধ ফসলের সাক্ষী হবে বলে আশাবাদী কৃষক মহল।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*