বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ১৩ জুলাই || ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার সীমান্ত মহকুমা সাব্রুমে উৎপাদিত উচ্চমানের রাজমা এবার পাড়ি দিচ্ছে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে। সাব্রুমের ফেনী এগ্রো প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড-এর কাছ থেকে ছত্তিশগড়ের খ্যাতনামা মারলিন এক্সপোর্ট সংস্থা মোট ১৫ টন রাজমা ক্রয় করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন বাজারের অভাবে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি।
সোমবার সাব্রুমের দৌলবাড়ি এলাকার হরিনস টিলার শিবমন্দির সংলগ্ন নাটমন্দির প্রাঙ্গণে জোরকদমে রাজমা বাছাই ও প্যাকিংয়ের কাজ চলতে দেখা যায়। পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন মারলিন এক্সপোর্ট কোম্পানির প্রতিনিধি জাহিদ খান, যিনি নিজে উপস্থিত থেকে রাজমার গুণমান পরীক্ষা ও সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করেন।
ফেনী এগ্রো প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা প্রগতিশীল কৃষক বিশ্বজিৎ মজুমদার জানান, চলতি মরসুমে এলাকার ৭২ জন প্রান্তিক কৃষক প্রায় ৫০ একর জমিতে রাজমার চাষ করেন। ফলন আশানুরূপ হলেও প্রথমদিকে রাজ্যের অভ্যন্তরে সঠিক বাজার ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকেরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। পরে একটি এজেন্সির সহায়তায় ছত্তিশগড়ের মারলিন এক্সপোর্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং ১৫ টন রাজমা বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন হয়।
মারলিন এক্সপোর্টের প্রতিনিধি জাহিদ খান বলেন, সাব্রুমের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানকার রাজমার গুণমান অত্যন্ত উন্নত। ছত্তিশগড়ের বাজারে এই রাজমার ভালো চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, বর্তমান মান বজায় থাকলে আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে সাব্রুম থেকে রাজমা সংগ্রহ করা হবে।
এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। একই সঙ্গে সাব্রুমের কৃষিপণ্য দেশের অন্য রাজ্যে পৌঁছানোর নতুন সম্ভাবনারও দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। কৃষকদের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে রাজমা চাষে আরও অনেক কৃষককে উৎসাহিত করবে।
