অর্থের দম্ভে অন্ধ বিত্তশালীর তাণ্ডব, খোয়াইয়ের জাম্বুরায় বয়স্ক দম্পতি ও তাঁদের ছেলেকে বেধড়ক প্রহার, থানায় মামলা দায়ের

গোপল সিং, খোয়াই, ২২ জুলাই || বিত্তশালীদের দম্ভ ও পাশবিক অত্যাচারের এক চরম ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী হলো খোয়াই থানাধীন পশ্চিম জাম্বুরা এলাকা। এলাকার এক প্রভাবশালী ও বিত্তশালী বলে পরিচিত সাগর ভৌমিকের বিরুদ্ধে এক দরিদ্র পরিবারের উপর দু-দুবার চড়াও হয়ে প্রবীণ দম্পতি ও তাঁদের ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আক্রান্ত প্রবীণ দম্পতির ছেলে সহ তাঁরা নিজেরাও গুরুতর জখম হয়েছেন এবং আক্রান্ত বৃদ্ধা রুপালি দাস (সূত্রধর) খোয়াই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। ২০শে জুলাই সোমবার, খোয়াই থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ১৯শে জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত্রি ১০:১৫ মিনিট নাগাদ এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং আক্রান্ত গৃহবধূ রুপালি দাস (সূত্রধর) ও তাঁর স্বামী পেশায় ছোট ব্যবসায়ী সুমন সূত্রধর দীর্ঘকাল ধরে জাম্বুরা এলাকায় অত্যন্ত কষ্টের সাথে বসবাস করছেন। তাঁদের বাড়িটি ছোট হওয়ায়, তাঁদের ছেলে ও ছেলের বউ সামনের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন।
সুমন সূত্রধর সংবাদমাধ্যমের সামনে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান যে, গত ১৯শে জুলাই রাতে আচমকা অভিযুক্ত সাগর ভৌমিক (পিতা- শ্যামল ভৌমিক) তাঁদের ছেলের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ অযোগ্য জঘন্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। গোলমাল শুনে প্রবীণ দম্পতি সেখানে খোঁজখবর নিতে গেলে, সাগর ভৌমিক তাঁদের ছেলেকে ঘর থেকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় বের করে আনে এবং রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। বহু মানুষের উপস্থিতিতেই এই তাণ্ডব চালানো হয় এবং ছেলেকে বাঁচাতে পিতা সুমন সূত্রধর এবং মা রুপালি দাস (সূত্রধর) এগিয়ে গেলে তাঁদের উপরও হিংস্রভাবে চড়াও হয় সাগর ভৌমিক। অভিযোগ, প্রচণ্ড মারধরের চোটে বৃদ্ধা মহিলার অন্তর্বাস থেকে শুরু করে পরনের কাপড় পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়। এমন নির্মম ও অমানবিক প্রহারে দম্পতি দুজনেই গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে খোয়াই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে আক্রান্ত বৃদ্ধা রুপালি দাসের পক্ষে তাঁর স্বামী সুমন সূত্রধর গত ২০শে জুলাই ২০২৬ তারিখে পুরো ঘটনার বিবরণ সহ প্রথমে খোয়াই মহিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে যান। কিন্তু প্রথমে মহিলা থানা মামলাটি সরাসরি গ্রহণ না করে, তা খোয়াই থানায় দাখিল করার পরামর্শ দিয়ে তাঁদের পাঠিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে খোয়াই থানায় লিখিত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এই জঘন্য ও পাশবিক হামলার ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং এখন দেখার বিষয়, আইনের তোয়াক্কা না করা, অর্থের দম্ভে অন্ধ সাগর ভৌমিকের বিরুদ্ধে খোয়াই থানার পুলিশ প্রশাসন কত দ্রুত ও কী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আক্রান্ত পরিবারটি এখন প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের আশায় পথ চেয়ে রয়েছে। কিন্তু ন্যায় বিচার না পেলে কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন এই বৃদ্ধ দম্পত্তি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*