মৎস্য দপ্তরের নাকের ডগায় ছড়া ও নদীতে বিষ ঢেলে দেদার মাছ নিধন, প্রকাশ্য দিবালোকে বিক্রি হচ্ছে বিষাক্ত মাছ, ক্ষোভে ফুঁসছেন খোয়াইবাসী

গোপল সিং, খোয়াই, ২২ জুলাই || খোয়াই মৎস্য দপ্তরের নাকের ডগায় খোয়াইতে ছড়া ও নদীতে বিষ ঢেলে বেদম মাছ নিধন যজ্ঞ জারি রয়েছে। প্রকৃতির সাথে খেলা করতে ব্যস্ত একধরনের অসাধু ব্যবসায়ী মাছ ধরার নামে ছড়া ও নদীর জলে বিষ ঢেলে দিচ্ছে এবং সেই বিষাক্ত মাছ প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের বুকে দেদার বিক্রিও করছে। মৎস্য দপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসন যে বিষয়টি জানে না এমন নয়—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল জনগণের মধ্য থেকে। আজ জনগণের সেই আশঙ্কার সত্যতাও মিলল হাতেনাতে।
জানা গেছে, জাম্বুরা হাওড় থেকে সৃষ্ট একটি ছড়া গণকী ও সুভাষপার্ক হয়ে খোয়াই জেলা হাসপাতাল চৌমুহনী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি খোয়াই নদীতে মিশেছে। আজ সেই হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায় বিষের প্রভাবে কত কেজি মাছ মারা গেল, তার চাক্ষুষ সাক্ষী রইল গোটা খোয়াইবাসী। যেখানে বিষ ঢালা হয়েছে, সেখান থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কুইন্টালে কুইন্টালে মাছ ধরা হয়েছে। কিন্তু তাজ্জব বিষয় হলো, প্রকৃতির বুক খালি করে ছড়ার জলে বিষ ঢেলে মাছ নিধন করা হলেও এবং সেই মারাত্মক বিষাক্ত মাছ প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের বাজারে বিক্রি করা হলেও, এই অনৈতিক বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে থাকা মৎস্য দপ্তর সম্পূর্ণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে।
যদিও ত্রিপুরা রাজ্যসহ ভারতের অন্যান্য স্থানে প্রাকৃতিক জলাশয়, ছড়া বা নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা বা জলজ সম্পদ ধ্বংস করা সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশবিদ ও মৎস্য আইন অনুযায়ী, এটি জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছসহ অসংখ্য পোনা মাছ মারা যায় এবং তীব্র জলদূষণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও গৃহপালিত প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।
আইন অনুযায়ী, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের খবর পেলে মৎস্য দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জলাশয়ের জলের নমুনা সংগ্রহ করা এবং প্রচলিত আইনি ধারায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু খোয়াইতে মৎস্য দপ্তর এবিষয়ে বিন্দুমাত্র সজাগ নয়, বরং তারা কুম্ভকর্ণের ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে বলেই তীব্র ক্ষোভের সাথে অভিমত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন জনগণ। এখন দেখার, এই খবর প্রকাশের পর ঘুম ভাঙে কি না প্রশাসনের।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*