আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর || বিরল রোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA)-তে আক্রান্ত ২২ মাসের শিশু মনুশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য সহায়তা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার ও পোস্টার লাগানোকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশুটির ছবির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মনুশ্রীর চিকিৎসার জন্য রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ইতিমধ্যেই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিশুটির চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে পোস্টার-ব্যানার নজরে আসে।
এই পোস্টারিংয়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা স্পষ্ট করে জানান, মনুশ্রীর চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার শুরু থেকেই সংবেদনশীল। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁর অনুমতি ছাড়াই এবং সরকারকে অবগত না করে তাঁর ছবি ব্যবহার করে পোস্টার-ব্যানার লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, মানবিক কারণে শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখলেও সরকারি অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ছবি ব্যবহারের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে ছবি ব্যবহার বা প্রচারের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বাধারঘাটের বাসিন্দা ছোট্ট মনুশ্রী চৌধুরী স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি বা SMA-এর মতো বিরল রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। এই পরিস্থিতিতে শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের বহু মানুষ। বিভিন্ন সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিরাও নিজেদের মতো করে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন।
মনুশ্রীর পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে দিল্লির AIIMS-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে শিশুটির চিকিৎসার জন্য সহায়তা সংগ্রহের এই মানবিক উদ্যোগের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে তা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন পোস্টার-ব্যানার লাগানোর সঙ্গে কারা যুক্ত এবং কীভাবে বিষয়টি এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
