কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার আগে শান্তিরবাজারে মন্দা প্রতিমার বাজারে, আর্থিক সংকটে চিন্তায় ক্রেতা-বিক্রেতা

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ২৪ অক্টোবর || রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি। তবে উৎসবের প্রাক্কালে শান্তিরবাজার মহকুমার বিভিন্ন বাজারে লক্ষ্মী প্রতিমা ও পূজার সামগ্রী কেনাবেচায় এখনও তেমন গতি দেখা যায়নি। ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকায় ব্যবসা কেমন হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে আর্থিক সংকটের কারণে পূজার আয়োজন নিয়ে চিন্তায় সাধারণ মানুষও। শুক্রবার শান্তিরবাজার মহকুমার বিভিন্ন বাজারে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
দুর্গাপূজার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি। কিন্তু আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে এবারের দুর্গাপূজাতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বহু মানুষকে। ফলে আসন্ন লক্ষ্মীপূজার আয়োজন কীভাবে সম্পন্ন করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত গ্রামীণ এলাকার অনেক পরিবার। এর প্রভাব পড়েছে বাজারের কেনাবেচাতেও।
শান্তিরবাজারের বিভিন্ন বাজারে ছোট থেকে বড়—বিভিন্ন আকারের লক্ষ্মী প্রতিমা নিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পী ও বিক্রেতারা। বাজারে সাজের প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। অন্যদিকে কাঠামোর প্রতিমার দাম ১,২০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতাদের বক্তব্য, গত বছরের তুলনায় প্রতিমা তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তা সত্ত্বেও ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে প্রতিমার দাম গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় প্রত্যাশিত লাভ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা। তবে পূজার আগে শেষ মুহূর্তে প্রতিমা কেনার জন্য বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে বলে আশাবাদী বিক্রেতারা।
প্রতিমার পাশাপাশি লক্ষ্মীপূজার অন্যান্য সামগ্রী নিয়েও বাজারে পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আকাশপ্রদীপ, বিভিন্ন ধরনের প্রদীপ, ফুলের মালা, লক্ষ্মীপাঁচালি, পূজার স্টিকার, বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা-সহ নানা সামগ্রী নিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। শুক্রবার এসব সামগ্রীর বাজারেও তেমন জমজমাট চিত্র চোখে পড়েনি। যদিও বিক্রেতাদের আশা, শনিবার বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়বে এবং ব্যবসায় কিছুটা গতি আসবে। তাঁদের দাবি, গত বছরের তুলনায় কিছু সামগ্রীর দাম বাড়লেও অধিকাংশ জিনিস এখনও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।
ফলমূলের বাজারেও দেখা গেছে একই পরিস্থিতি। বিক্রেতাদের কথায়, ফলমূলের দাম গত বছরের তুলনায় বিশেষ পরিবর্তন না হলেও অনেকের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে পূজার সামগ্রী কেনার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প পরিমাণে ফলমূল কিনছেন ক্রেতারা।
সব মিলিয়ে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে শান্তিরবাজারে প্রস্তুতি চললেও বাজারে কেনাবেচার গতি এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। এখন দেখার বিষয়, পূজার আগের শেষ দিনে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কতটা বাড়ে এবং বিক্রেতাদের মুখে শেষ পর্যন্ত হাসি ফোটে কি না।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*