আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৩ নভেম্বর || সিপাহীজলা জেলার কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি এলাকায় বিএসএফের উপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় কোনও অভিযুক্তকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার ছবি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এ ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার (২ নভেম্বর) সিপাহীজলা জেলার কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত আশাবাড়ি এলাকায় আন্তঃসীমান্ত চোরাকারবারি ও স্থানীয় কিছু লোকজনের সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ড্যান্ট তথা সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমারসহ একাধিক জওয়ান আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বিএসএফের সরকারি গাড়িও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এবং পঞ্চায়েত কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় দৈনন্দিন ডিউটি ও সীমান্ত টহলে নিয়োজিত ছিলেন বিএসএফের ৪৯তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা হেফজুর রহমান ঝোপঝাড় পরিষ্কারের আড়ালে সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বিএসএফ জওয়ানরা তাঁকে বাধা দিলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, এরপর কয়েকজন চোরাকারবারি ও তাদের প্ররোচনায় স্থানীয় কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে বক্সনগর-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ৪৯তম ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমারসহ অতিরিক্ত জওয়ানরা। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিবর্তে তাঁদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিএসএফের সরকারি গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনায় সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার, গাড়িচালক সুনীল কুমার এবং জওয়ান মনজিতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের প্রথমে বক্সনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের আগরতলার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে কলমচৌড়া থানার পুলিশ এবং বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিএসএফ শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনীই নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। প্রতিকূল পরিবেশে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দিনরাত সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকেন জওয়ানরা। তাঁদের উপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের একাংশ। অভিযোগ বা মতবিরোধ থাকলে তা আইনি পথে সমাধান করা উচিত, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয় বলে মত তাঁদের। সীমান্তের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর আশাবাড়ি কাণ্ডে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
