পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘নিউজ আপডেট’র খোয়াই প্রতিনিধি ও পিএলভি

jhগোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ জুলাই ৷৷ খোয়াই শহরের প্রাণকেন্দ্রে খোয়াই সুভাষপার্ক বাজার থেকে খোয়াই জেলা জাস্পাতালের দূরত্বের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা তার কোলের শিশুকে নিয়ে বিগত ৪-৫ দিন ধরে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা করছিল। মহিলাটি তার ১১ মাসের শিশুটির সাথে অমানবিক আচরণ করে চলছিল। লিন্তু খোয়াই শহরের কোন ক্লাব, সামাজিক সংস্থা বা সমাজকর্মীর নজরে বিষয়টি ধরা পরেনি। তথাকথিত সমাজসচেতক সহ প্রশাসন ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকায় ছিলেন। এই হল আমাদের আগামী দিনের উন্নত সমাজের ছবি। সবাই দৌড়ে ব্যস্ত। তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের কিছু বখাটের কুনজরও পড়েছিল মানসিক ভারসাম্যহীন এই মহিলাটির উপর। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাটি এবং তার ১১ মাসের শিশুটির দিকে নজর যায় “নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম”র খোয়াই প্রতিনিধির। নিজের পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আমাদের খোয়াই প্রতিনিধি। এদিন রাতেই ফোনে যোগাযোগ করা হয় খোয়াই মহকুমার আইনসেবা কমিটির পি এল ভি গোপা চক্রবর্তীর সাথে। শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয় তাদের খোঁজ। অনেক চেষ্টার পর তাদের আস্তানায় উৎপেতে বসে দুপুরে গিয়ে পাওয়া যায় তাদের। পি এল ভি গোপা চক্রবর্তী, খোয়াই থানার মহিলা এস আই কমলা মুড়াসিং, কনস্টেবল কামনা নমঃ ও বিশু দেববর্মা সহহ দু’জন টি এস আর জওয়ানের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা এবং তার ১১ মাসের শিশুটিকে উদ্ধার করতে সম্ভব হয়। কারন, মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাটি পি এল ভি এবং পুলিশকে মারতে উদ্যত হয়। উদ্ধারের পর তাদের মেডিক্যাল করে দুজনকেই যথাক্রমে অ্যাসাইলেম ও হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পরে পি এল ভি গোপা চক্রবর্তী জানান, মহিলাকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, মহিলার নাম দীপালি ঘোষ (২৩)। স্বামী সুপ্রকাশ ঘোষ। মহিলার পিতার নাম চিনু মালাকার। বাড়ী সিধাইয়ের তুলাবাগানে। ১১ মাসের শিশুকন্যাটির নাম রাধিকা ঘোষ। জানা যায়, শুক্রবার তাদের খোয়াই সিজিএম আদালতে তোলা হয়। সেখান থেকে তাদের সাইলেম ও হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*