কোটি টাকার সরকারি কাজুবাদাম বাগান এখন অযত্নে, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

আপডেট প্রতিনিধি, সাব্রুম, ২৫ জুন || দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার পোয়াংবাড়ি আরডি ব্লকের অন্তর্গত আমলিঘাট এলাকায় কৃষি দপ্তরের অধীনে গড়ে ওঠা জেলার বৃহত্তম কাজুবাদাম বাগান বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা এই বাগান আজ কার্যত কিছু অসাধু ব্যক্তির ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে প্রায় ২১ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষের উদ্যোগ নেয় কৃষি দপ্তর। আমলিঘাট এলাকার মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশ কাজুবাদাম চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এখানে বৃহৎ পরিসরে বাগান গড়ে তোলা হয়। প্রকল্পটির দেখভালের জন্য সরকারি কর্মচারীও নিয়োগ করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বর্তমানে বাগানের অধিকাংশ গাছে নিয়মিত ফলন হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে চলতি মরশুমেও গাছে মুকুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই উৎপাদিত কাজুবাদাম বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে কোনো রাজস্ব জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ। অথচ বাজারে কাজুবাদামের দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারত।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাগানটির কোনো সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। একসময় যাঁরা এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই অবসরে চলে গেছেন। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা অবশিষ্ট কর্মচারীরও চলতি বছর অবসর গ্রহণের কথা রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নজরদারির অভাবে কিছু ব্যক্তি বাগানের ফল সংগ্রহ করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণ কৃষি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, বাগানটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত কাজুবাদামের স্বচ্ছ বিপণন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হোক।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*