আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ জুন || ত্রিপুরার অন্যতম পিছিয়ে পড়া ও প্রত্যন্ত জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আঠারোমুড়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ৪৩ মাইল গ্রাম। দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (ADC) এলাকার অন্তর্ভুক্ত এই পাহাড়ি জনপদ নানা সমস্যায় জর্জরিত। সরকারের নানা প্রকল্প থাকলেও তা পৌঁছাচ্ছে না সব মানুষের কাছে — এমনই অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সম্প্রতি রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা এই এলাকায় একটি ঘরোয়া মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। ‘পাহাড়ের পাদদেশে জনতার স্বর’ নামক এই বিশেষ আলোচনায় গ্রামের সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর সামনে তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা ও প্রশাসনিক বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন।
সচিবের অনুপস্থিতিতে পরিষেবা বন্ধঃ
এই সভায় সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে আঠারোমুড়া ADC ভিলেজ কার্যালয়ের সচিব সুমন দাসকে ঘিরে। অভিযোগ, সচিবের গড় হাজিরার কারণে মাসের পর মাস বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা। নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে রেশন সংক্রান্ত কাজে জনসাধারণকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। একাধিকবার ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান।
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা অভিযোগগুলি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বলেন, “প্রশাসনিক শৃঙ্খলার নামে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ মেনে নেওয়া হবে না। সচিবের গড় হাজিরা যদি মানুষের কষ্টের কারণ হয়, তাহলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে।” তিনি বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে তোলার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন মন্টু রঞ্জনঃ
এই সভায় একটি মানবিক দিকও উঠে আসে। এলাকার উচ্চশিক্ষিত যুবক মন্টু রঞ্জন দেববর্মা নিজের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে গ্রামের শিশুদের শিক্ষাদান করে চলেছেন। তার এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ শুনে মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও শিক্ষা সামগ্রী সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
মন্ত্রী বলেন, “এই পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে হলে মন্টুর মতো যুবকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা সমাজ গঠনের প্রকৃত সৈনিক।” তিনি আরও বলেন, “এলাকার বহু মানুষ এখনও অশিক্ষিত। অনেক জায়গায় এখনও টিপসই দিয়ে সরকারি কাজ করতে হয়। এই বাস্তবতা বদলাতে হলে শিক্ষার প্রসারই একমাত্র উপায়।”
আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসীঃ
এই ঘরোয়া সভার মাধ্যমে যেমন উঠে এসেছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বঞ্চনার কথা, তেমনি ফুটে উঠেছে এলাকার মানুষের আশাবাদ। মন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি এবং সমস্যা শোনার আগ্রহ এলাকাবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এমন ঘরোয়া সভা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পাহাড়ি জনপদগুলোর উন্নয়নে সরকার ও প্রশাসন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
