“প্রতিশোধ নয়, উন্নয়নের রাজনীতি”—পশ্চিমবঙ্গ জয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

আপডেট প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গ, ০৫ মে || পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সন্ধ্যায় দলের সদর দপ্তরে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই জয় প্রতিশোধের নয়, বরং পরিবর্তন ও উন্নয়নের রাজনীতির প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই ফলাফল নতুন সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন। একইসঙ্গে তিনি আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পদুচেরির ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশ্ব পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের মাঝেও ভারতের ভোটাররা স্থিতিশীল শাসনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্র আমাদের কাছে শুধু একটি কাঠামো নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ… আজ ভারতের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির জয় হয়েছে।”
বর্তমানে দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ক্ষমতায় রয়েছে উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “নাগরিক দেবো ভব”—এই মন্ত্র নিয়েই সরকার পরিচালিত হচ্ছে এবং মানুষের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।
বাংলার ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নের শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার সুযোগ এসেছে। তাঁর বক্তব্য, “আজ থেকে বাংলার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা হবে ভয়মুক্ত ও আশায় ভরপুর।”
রাজ্যের উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নারীদের নিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান, অভিবাসন রোধ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা জোরদার করতে সরকার কাজ করবে। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প অনুমোদনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।
ভাষণের শেষে তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”—এই আদর্শকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*