গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ মে || আক্রান্ত খোয়াই মন্ডল নেতা বিমল দত্ত। নিজ গ্রামে স্বদলীয় কর্মীদের দ্বারা প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়ে খোয়াই থানায় মামলা করলেন। আজ খোয়াই থানা চত্বরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গোটা ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। সোমবার রাতে তার ওপর একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী প্রাণঘাতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন। পিস্তল উঁচিয়ে খুনের চেষ্টা এবং গলার সোনার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগে ইতিমধ্যে খোয়াই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা থেকে দশটার মধ্যে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পূর্ব গণকী ভগৎ সিং কলোনি এলাকায় স্থানীয় লিটন চক্রবর্তীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় গ্রামেরই একদল দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। অভিযুক্তদের মধ্যে পৃথ্বীশ বর্ধন, অসীম মুখার্জি, আশিস দেব, সুব্রত দেবনাথ, রাকেশ দেবনাথ ও অধীর দেবনাথের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিমল দত্তের অভিযোগ, পথরোধ করার পরই পৃথ্বীশ বর্ধন তাঁর দিকে পিস্তল উঁচিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। সেই সুযোগে আশিস দেব তাঁর গলার সোনার চেইনটি ছিনতাই করে নেয়। আক্রান্ত নেতার আর্তচিৎকারে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিমল দত্ত স্পষ্ট জানান, এদের মধ্যে দু-একজন সিপিআই(এম) সমর্থক হলেও বাকিরা সরাসরি শাসক দল বিজেপির কর্মী হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর দাবি, এই দুষ্কৃতীরা মূলত দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় নানা বেআইনি কার্যকলাপ ও গুণ্ডামি চালিয়ে যাচ্ছে, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি গ্রামবাসীদের হুমকি ও অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। গ্রামবাসীদের হয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
এই ঘটনায় খোয়াই থানায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মন্ডল পর্যায়ের নেতার ওপর পিস্তল উঁচিয়ে হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দোষীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আক্রান্ত নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শাসক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের জেরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো খোয়াইয়ের পূর্ব গণকী এলাকায়।
