নতুন এসপি’র নেতৃত্বে খোয়াইতে আটক এক ড্রাগস কারবারি

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৯ জুন || যেখানে দীর্ঘকাল যাবত খোয়াই থানার পুলিশ ড্রাগসের কারবারীদের বাগে আনতে ব্যর্থ, সেখানে নতুন দায়িত্ব নিয়ে খোয়াই জেলার এসপি সাহেব সক্রিয় ভুমিকায় অবতীর্ণ হলেন। রবিবার নতুন এসপি রাণাদিত্য দাসের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে পুলিশ এই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। এদিন দুপুরে শহরের টিকেডিকে রোড এলাকা থেকে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এদিন দুপুর প্রায় দুটো নাগাদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাদা পোশাকের পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রশান্ত দাস (৩০) নামে ওই যুবককে হাতেনাতে পাকড়াও করে। ধৃত প্রশান্তের বাড়ি খোয়াইয়ের লালছড়া এলাকায়, তার বাবার নাম পরেশ দাস।
নতুন এসপি রাণাদিত্য দাস খোয়াইয়ের আপামর জনসাধারণ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে এই ঘাতক ড্রাগসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এসপি সাহেবের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছে খোয়াইবাসী।
যদিও এতদিন যাবত খোয়াই শহরে খোয়াই থানাবাবুদের মাদক বিরোধী অভিযান চললেও, তাতে জনমনে স্বস্তি ফেরার বদলে বাড়ছিল ক্ষোভ আর সন্দেহ। কিন্তু আজকের ঘটনাকে বাহবা দেওয়ার সাথে সাথে শহরবাসী খোয়াই থানার এতদিনকার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। জনগণের অভিযোগ, এতদিন পুলিশ ছোটখাটো কারবারিদের ধরে ‘হিরো’ সাজার চেষ্টা করলেও, আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’রা বরাবরই অধরা থেকে যাচ্ছে।
যদিও এই আটকের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জনগণের অভিযোগ, যতক্ষণ পর্যন্ত এই মাদক চক্রের মূল মাথাদের গ্রেপ্তার করা না যাচ্ছে, ততক্ষণ যুবসমাজকে মাদকের মারণ ছোবল থেকে বাঁচানো অসম্ভব। কিন্তু খোয়াই থানার পুলিশ প্রায়শই জনগণের দ্বারা আটক হওয়া বা ছোটখাটো কারবারিদের ধরেই নিজেদের দায়িত্ব সারছে। ক্ষুব্ধ জনতার আরও অভিযোগ, পুলিশ এযাবৎ বহু ছোট কারবারিকে আটক করলেও, তাদের জেরা করে বড় কারবারিদের টিকির নাগালও পায়নি। এর পিছনে কি কোনো গোপন আর্থিক লেনদেন রয়েছে? মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়েই কি বড় কারবারিদের আড়াল করা হচ্ছে? — পুলিশের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে এমনই গভীর সন্দেহ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে। এদিকে, ধৃত প্রশান্ত দাসকে খোয়াই থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*