গোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ জুলাই || গত ৪ঠা জুলাই ২০২৫ এ খোয়াইয়ের একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হবার পর থেকে ঘটনার পক্ষে ও বিপক্ষে সম্মুখ সমরে হোটেল মালিক ও নিজ স্বামী কর্তৃক প্রতারনার শিকার এক বিবাহিতা স্ত্রী। আমাদের কাজ হচ্ছে প্রমাণ সহ ঘটনার সত্য উদঘাটন। সেই প্রমাণ খতিয়ে দেখে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদনে আমরা তুলে ধরলাম।
গত ৪ঠা জুলাই, ২০২৫-এ খোয়াইয়ের ত্রিপুরেশ্বরী গেস্ট হাউসে স্বামীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরার ঘটনা নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। স্বামীর “জন্মদিনের পার্টি”-র অজুহাতকে মিথ্যা প্রমাণ করতে এবার তাঁর ভোটার কার্ড প্রকাশ্যে আনলেন অভিযুক্ত মেঘন দেবনাথের স্ত্রী। অন্যদিকে, হোটেলে ভাঙচুর ও হেনস্থার অভিযোগ তুলে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন হোটেল মালিক বিকাশ ঘোষ, যা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মেঘন দেবনাথের স্ত্রী হোটেলের একটি ঘরে তাঁর স্বামী এবং নিজেরই এক বান্ধবীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। সেই ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি হোটেল মালিক বিকাশ ঘোষ খোয়াই থানায় একটি মামলা দায়ের করে দাবি করেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে কিছু লোক হোটেলে ঢুকে গ্রাহকদের হেনস্থা ও একটি ঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে বা অন্য কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভাঙচুরের কোনো প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি।
এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী মেঘন দেবনাথ নিজেকে বাঁচাতে দাবি করেছিলেন, তিনি পরকীয়ার জন্য নয়, বরং নিজের জন্মদিন পালন করতে বান্ধবীর সঙ্গে হোটেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণ করেছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি মেঘনের ভোটার কার্ড প্রকাশ্যে এনে দেখান যে, মেঘনের আসল জন্মতারিখ ২৩শে ডিসেম্বর, ১৯৯৮। অর্থাৎ, ৪ঠা জুলাই তাঁর জন্মদিন ছিল না। মেঘনের স্ত্রী আরও জানান, যে বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর স্বামী ধরা পড়েছেন, সেই বান্ধবীর জন্মদিনও মার্চ মাসে পেরিয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতেও, হোটেলের ঘরে জন্মদিনের কোনো আয়োজন, যেমন কেক বা সাজসজ্জা, কিছুই ছিল না। ফলে “জন্মদিনের পার্টি”-র তত্ত্বটি ধোপে টিকছে না।
মেঘনের স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালান। তিনি বলেন, “স্বামীর মিথ্যাচারের আরও অনেক শক্তপোক্ত প্রমাণ আমার কাছে আছে এবং প্রয়োজনে সেগুলিও জনসমক্ষে আনব।” পাশাপাশি, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি, যা থেকে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন। এই ঘটনায় হোটেল মালিকের ভূমিকাও এখন প্রশ্নের মুখে। এছাড়া মেঘন ও তার সাথে হোটেলের রুমে থাকা মেয়েটির ওয়াসআপ চ্যাটও হাতে রয়েছে মেঘনের স্ত্রীর কাছে। যেগুলি মিডিয়ার হাতেও চলে এসেছে। এর থেকে মেঘনের মিথ্যাচার থেকে পর্দা ফাঁস হয়ে গেছে। আর এর সবটাই কৃতীত্ব তার স্ত্রীর।
