গোটা রাজ্যজুড়ে স্মার্ট মিটারের অস্বাভাবিক বিলে নাভিশ্বাস গ্রাহকদের, বিরোধীদের আন্দোলনের সুযোগ করে দিচ্ছে না তো নিগম?

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৪ জুলাই || নতুন স্মার্ট মিটারের ‘ভুতুড়ে’ বিলের জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে খোয়াই সহ গোটা রাজ্যের সাধারণ মানুষের। বিরোধীদের আন্দোলনের সুযোগ করে দিচ্ছে নিগম! প্রশ্ন অভিজ্ঞমহলের!
শুধুমাত্র খোয়াইতেই দেখা যাচ্ছে এক মাসের বিদ্যুতের বিল কারোর ৮২,৫০০ টাকা, ৭৪,০০০ টাকা, ৬১,০০০ টাকা কিংবা কারোর ৩১,০০০ টাকা আসায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও নতুন মিটার ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (TSECL) তৈরী করছেনা। সেটা তৈরী করছে কোনো এক কোম্পানি। নিয়ম হচ্ছে, নতুন মিটার বিদ্যুৎ দপ্তরে চেক করা হবে, তারপর সেটা লাগবে কনজিউমারের বাড়ীতে।’ কিন্তু ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (TSECL) মানছেনা নিয়ম। যার ফলে নতুন মিটার নিয়ে বাড়ছে ত্রিপুরা রাজ্যের চারদিকেই বাড়ছে ক্ষোভ। অভিজ্ঞমহলের দাবী, নতুন মিটারের কার্যকারীতা যাচাই না করে সরকার বিরোধী কোনো চক্রান্তকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছেনা তো! এইসব জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই খোয়াইতে স্মার্ট মিটারের ভুতুরে বিলে হতচকিত গ্রাহকরা। একটি নয়, পরপর চারটি ঘটনা খোয়াইবাসীকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। বাড়ছে ক্ষোভ।
ঘটনার সূত্রপাত খোয়াইয়ের বনকর এলাকা এবং লালছড়া এলাকায়। বনকর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী প্রমেশ ভট্টাচার্যের এক মাসের বিল এসেছে ৩১,০০০ টাকার বেশি। গত মাস পর্যন্ত এই বিলের পরিমাণ ছিল অনুর্ধ ১২০০ টাকা। অন্যদিকে, বনকর এলাকারই পূর্ণিমা দাসের বিল এসেছে ৬১,৪৮১ টাকা। গত মাস পর্যন্ত এই বিলের পরিমাণ ছিল ১৯২ টাকা। এদিকে লালছড়ার বাসিন্দা অশোক দাস রায়ের বিল এসেছে ৮২,৫০০ টাকা। গত মাস পর্যন্ত এই বিলের পরিমাণ ছিল ৮৭২ টাকা।
নিতীশ চৌধুরীর বিল এসেছে ৭৪,২৬৫ টাকা। গত মাসে এসেছিল ৮১০ টাকা। বিল দেখে হতবাক চার পরিবারই। তাঁরা অনতিবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ স্মার্ট মিটার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। রাজ্যজুড়েই নতুন মিটার নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি কোম্পানির তৈরি মিটার গ্রাহকের বাড়িতে লাগানোর আগে বিদ্যুৎ দপ্তরে তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ, ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (TSECL) সেই নিয়ম মানছে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন, মিটার পরীক্ষা না করে ইচ্ছাকৃতভাবে গণক্ষোভ তৈরি করে সরকারকে বিপাকে ফেলার কোনো চক্রান্ত চলছে না তো?
এই জল্পনার মধ্যেই যখন গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে কার্যত উধাও খোয়াই বিদ্যুৎ দপ্তরের সিনিয়র ম্যানেজার দিবাকর নাথ। বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া না মেলায় সাধারণ মানুষের সমস্যা ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে। মানুষ এখন কার কাছে নিজেদের সমস্যার কথা জানাবে, তা নিয়ে দিশেহারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*