সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৪ জুলাই || একদা কচিকাচাদের আনন্দের ঠিকানা হিসেবে গড়ে উঠেছিল একটি শিশু উদ্যান। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই উদ্যান আজ শুধুমাত্র প্রশাসনিক অবহেলার কারণে পরিণত হয়েছে নেশাখোরদের নীরব আড্ডাস্থলে এবং গোচারণ ভূমিতে।
ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার অন্তর্গত ডুম্বুরনগর ব্লকের সরমা এডিসি ভিলেজ অফিস সংলগ্ন মাঠে ২০০৮ সালে তৎকালীন ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি শিশু পার্ক। ছোটদের খেলাধুলার কথা মাথায় রেখে বসানো হয়েছিল দোলনা, বসার জন্য ঢালাই বেঞ্চ, এমনকি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে একটি মর্মরমূর্তিও স্থাপন করা হয়েছিল। সবমিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছিল পার্কটি নির্মাণে।
কিন্তু কালের নিয়মে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির ফলে বর্তমানে পার্কটির অস্তিত্বই প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঘন জঙ্গলে ঢেকে গেছে গোটা উদ্যান এলাকা। দিনের বেলা পরিণত হয় গোচারণ ভূমিতে, আর সন্ধ্যা নামতেই সেই স্থানে জমে ওঠে নেশাখোরদের আড্ডা। অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে মাদকসেবীদের আসর। পার্কের দোলনা, বেঞ্চ, এমনকি মূর্তিও আজ আর নেই—সবকিছুই অদৃশ্য।
অথচ আশ্চর্যজনকভাবে ওই পার্কটির পাশ দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন মহকুমা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ অফিসার। কিন্তু দায়িত্ববান কারোর নজরেই পড়ে না এই শিশুপার্কটির করুণ দশা। ব্লক প্রশাসন কিংবা মহকুমা শাসকের তরফ থেকেও এখনো পর্যন্ত কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করছেন না কেউ।
ফলে স্বভাবতই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের বক্তব্য, শিশুদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার ক্ষেত্র প্রয়োজন। অথচ সেই প্রয়োজনকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে, সরকারি অর্থে গড়ে তোলা পরিকাঠামোকে এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়।
স্থানীয় মানুষের দাবি, অবিলম্বে পার্কটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করুক ব্লক প্রশাসন। একইসঙ্গে পার্ক এলাকাকে মাদকসেবীদের হাত থেকে রক্ষা করে শিশুদের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
