আপডেট প্রতিনিধি, চরিলাম, ১৯ জুলাই || ত্রিপুরার চরিলাম এলাকার চ্যাটার্জি কলোনিতে এক যুবকের চাঞ্চল্যকর আত্মহত্যার ঘটনায় তোলপাড় গোটা এলাকা। সামাজিক অবক্ষয়ের এক বেদনাদায়ক চিত্র উঠে এসেছে এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে। অভিযোগ, বন্ধুর মায়ের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ২৩ বছর বয়সী প্রসেনজিৎ শীল নামে এক যুবক।
প্রথমে সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে না পারলেও পরে অনুশোচনায় ভুগতে শুরু করে সে। ধীরে ধীরে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে প্রেমিকা, অর্থাৎ বন্ধুর মা, তাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। প্রসেনজিতের ব্যক্তিগত ছবি এবং মেসেজ ফাঁস করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই মানসিক চাপে চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ে যুবক। একদিকে বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার গ্লানি, অন্যদিকে ব্ল্যাকমেলিং-এর যন্ত্রণা—সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল প্রসেনজিৎকে।
শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট করে নিজের কষ্ট ও অনুশোচনার কথা তুলে ধরে আত্মঘাতী হয় সে। পোস্টে বন্ধুর প্রতি দুঃখপ্রকাশ করে প্রসেনজিৎ লেখে, তার জীবনভুলের মূল্য সে নিজেই চুকিয়ে দিচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা একে ‘সামাজিক অবক্ষয়ের চরম পরিণতি’ হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ভুলের পর আত্মহত্যাই কি শেষ পথ? সমাজ কি আর কাউকে সংশোধনের সুযোগ দেয় না?
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজ ও পরিবারকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও গভীরভাবে ভাবনার সময় এসেছে বলে মত সমাজবিদদের।
