আপডেট প্রতিনিধি, খোয়াই, ১৯ জুলাই || শুক্রবার সন্ধ্যা ছ’টায় খোয়াই শহরে অনুষ্ঠিত হল “পরিযায়ী সাহিত্য আড্ডা”-র তৃতীয় পর্ব। রাজ্যের বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন কমলা রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই সাহিত্য আড্ডায় জমে উঠেছিল কাব্য, সংগীত ও চিন্তার মনোমুগ্ধকর মেলবন্ধন।
আড্ডার আহ্বায়ক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবী কমলা রঞ্জন ভট্টাচার্য, এবং বিশেষ আলোচকের আসনে ছিলেন বরিষ্ঠ কবিসাহিত্যিক প্রণব কান্তি চৌধুরী।
আড্ডার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য। এরপর একে একে স্ব-রচিত কবিতা পাঠ ও সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ প্রিয়তোষ ঘোষ, কবি মনোজিৎ দত্ত, দীপেন নাথশর্ম্মা, করুণা দেবনাথ, সুমিতা রায়, সুব্রত আচার্য্য, সুদীপ পাল, সুদীপ দেব এবং অনিমেষ ঝষি দাস।
এদিন শ্রীমদভগবদগীতার সারমর্ম নিয়ে মননশীল আলোচনা রাখেন কবিসাহিত্যিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী। ছোটগল্পের সাহিত্যিক দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও গল্পকার জহর লাল দাস। পাশাপাশি, তরুণ কবি সৌর প্রতিম শর্ম্মা “পরিযায়ী আড্ডা”-র উদ্দেশ্য ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মত প্রকাশ করেন।
ছড়া বিষয়ক বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন প্রণব কান্তি চৌধুরী। এরপর সুরের আবেশ ছড়ায় নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিল্পী দেবাদৃতা ভট্টাচার্য্য। সংগীত পরিবেশন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী মৃণাল নাথশর্ম্মা এবং তবলায় সঙ্গত করেন বিশিষ্ট তবলাশিল্পী দেবব্রত পাল।
আড্ডার শেষ পর্বে সভাপতির বক্তব্যে কমলা রঞ্জন ভট্টাচার্য খোয়াই শহরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করান। তিনি টাউন হল নির্মাণ, শেখর স্মৃতি নাট্যোৎসব, নাট্যসংসদের পথচলা ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব হীরেন্দ্র সিনহার অবদান তুলে ধরেন।
উপস্থিত সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা এই আড্ডার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে অভিজ্ঞ সাহিত্যিকদের সংলাপ ও সৃজনশীল আদানপ্রদানকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। পরিশেষে সভাপতি তৃতীয় পর্বের “পরিযায়ী সাহিত্য আড্ডা”-র শুভ সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
