খোয়াইয়ে পাগলা কুকুরে ১০–১২ জন আহত: বনদপ্তরের নিস্ক্রিয়তায় ক্ষোভ, পুলিশের সাহসী ভূমিকা প্রশংসিত—কুকুর হত্যায় ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ একাংশের

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ নভেম্বর || বুধবার সকালেই খোয়াই শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় এক পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে। সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ খোয়াইয়ের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়িয়ে ওই কুকুরটি অন্তত ১০–১২ জন সাধারণ মানুষকে কামড়ে গুরুতরভাবে আহত করে। হঠাৎ এমন হামলায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই বনদপ্তরকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বনদপ্তর বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কোনও টিম ঘটনাস্থলে না পৌঁছোনোয় ক্ষোভ বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এই অবস্থায় এগিয়ে আসেন খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকারসহ পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা দলবল নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়ে কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ চেষ্টার পর পাগলা কুকুরটিকে হত্যা করতে বাধ্য হয় পুলিশ দল।
স্থানীয়দের মতে—“পুলিশ সময়মতো পৌঁছোতে না পারলে আরও বহু মানুষ আক্রান্ত হতে পারত। বনদপ্তরের ভূমিকা উদ্বেগজনক।” পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা আরও বলেন—“ওসি কৃষ্ণধন সরকার দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। আজ অন্তত দশ-বারো জন বাঁচলেন দ্রুত অ্যাকশনের জন্য।”
আহতদের কয়েকজনকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সবাইকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-রেবিজ ও অন্যান্য চিকিৎসা দিয়েছেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর খোয়াইবাসীর ক্ষোভ মূলত বনদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার দিকেই। খোয়াইতে কখনই সময় মতো জনগণের ডাকে সাড়া দেয়না বনদপ্তরের কর্মীরা। সেটা বিষধর সাপ উদ্ধারের প্রশ্নেই হউক বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারের বিষয়ই হউক। এছাড়া খোয়াইয়ের আনাচে-কানাচে যেভাবে বৃক্ষ রোধন হচ্ছে, তাতেও বনদপ্তর চোখ বন্ধ করে দিন কাটিয়ে যাচ্ছে। ক্ষোভে ফুসছেন সচেতনমহল।
তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুকুরটিকে হত্যার সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছেন না বহু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। তাঁদের অভিযোগ—প্রশাসনের আরও মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ ছিল।
স্থানীয়দের একাংশের মতে,
“পাগলা কুকুর হলেও প্রাণীটিকে হত্যা করা কোনও সমাধান নয়। ট্রাঙ্কুলাইজার ব্যবহার করে ধরার ব্যবস্থা করা যেত। এভাবে সরাসরি হত্যা করা অমানবিক।”
নিন্দার সুর আরও তীব্র হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, শহরে পাগলা কুকুর দমন কিংবা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বনদপ্তর ও পৌর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ঠিক কতটা শক্তিশালী?
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে দাবি—মানুষের প্রাণরক্ষা ছিল তাঁদের প্রথম লক্ষ্য। কুকুরটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছাড়া উপায় ছিল না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোয়াইয়ে এখন দু’ধরনের মতামত—একদিকে মানুষের নিরাপত্তা, অন্যদিকে প্রাণীর প্রতি মানবিকতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী ও পশু-অধিকার সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*