আপডেট প্রতিনিধি, সাব্রুম, ১৯ জুন || দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেল দক্ষিণ জেলা জিলা পরিষদের প্রাক্তন কার্যকরী সদস্য তথা বিজেপি নেতা দেবাশীষ মজুমদারের বসতবাড়ি। শুক্রবার সাব্রুমের দমদমা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিং টিলা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দমকল বাহিনীর বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, এদিন হঠাৎ করেই দেবাশীষ মজুমদারের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গোটা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সাব্রুম ফায়ার স্টেশনে খবর দেন।
অভিযোগ, খবর দেওয়ার দীর্ঘক্ষণ পর দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুধু তাই নয়, আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় জলের পাইপও তাদের সঙ্গে ছিল না। পরে যে পাইপটি আনা হয়, সেটিও ছিল ছিদ্রযুক্ত। ফলে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেও প্রথমদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যত ব্যর্থ হয়। দমকলের এই অব্যবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তারা হতাশা ও ক্ষোভে জল সরবরাহও বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে মনুবাজার থেকে দমকলের আরেকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দেবাশীষ মজুমদারের বসতঘর, আসবাবপত্রসহ প্রায় সমস্ত সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাড়ির উঠোনে থাকা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেলও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।
তবে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও বাড়ির ঠাকুর ঘরটি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দমকল বাহিনী যদি সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করত, তবে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাব্রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসডিএম রতন দাস এবং প্রাক্তন বিধায়ক শংকর রায়। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।
এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। দমকল বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
