কৈলাসহরের কন্যা স্নেহার রূপকথা: দিল্লীর কোচিং ছাড়াই ঘরে বসে বাজিমাত! ইউপিএসসি প্রিলিমিনারিতে অভাবনীয় সাফল্য

গোপল সিং, খোয়াই, ১৯ জুন || আরও একবার সর্বভারতীয় স্তরে ত্রিপুরার মেধার জয়জয়কার। দেশের সবচেয়ে কঠিন এবং মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা ‘ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস’-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় দুর্দান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করলেন উনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃতি কন্যা স্নেহা দে। চলতি ২০২৬ সালের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কঠিন ও জটিল ছিল বলে যেখানে দেশজুড়ে বহু পরীক্ষার্থী এবং বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন, সেই কঠিন বৈতরণী পার করে স্নেহার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
স্নেহা দে কৈলাসহরের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব বিপ্লব দে এবং রুমা দাস দে-এর সুযোগ্য কন্যা। স্নেহার এই অসাধারণ ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের খবর সামনে আসতেই গোটা উনকোটি জেলা সহ রাজ্যজুড়ে খুশির হাওয়া বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে এখন শুধুই স্নেহার জন্য অভিনন্দন এবং সিভিল সার্ভিসেসের পরবর্তী ‘মেইন’ পরীক্ষার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে চলেছে।

ইউপিএসসি-র এই বছরের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় স্নেহার এই লড়াই কতটা কঠিন ছিল। শিক্ষা মহলের একাংশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশজুড়ে প্রায় ৫.৫ লক্ষ (সাড়ে পাঁচ লাখ) পরীক্ষার্থী এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৩,৩৪৩ জন পরীক্ষার্থী মেইন পরীক্ষার জন্য চূড়ান্তভাবে কৃতকার্য হয়েছেন। কিন্তু স্নেহার এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় এবং অনুপ্রেরণাদায়ক দিকটি হলো—ইউপিএসসি ক্র্যাক করার জন্য তিনি দেশের অন্য হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মতো দিল্লী বা অন্য কোনো বড় শহরের নামী-দামী কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হননি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোচিং ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজের অদম্য ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের বাড়িতে বসে একাগ্রতার সাথে ‘সেলফ স্টাডি’ বা স্ব-প্রস্তুতি চালিয়েই তিনি প্রথম ধাপের এই কঠিন প্রাচীর টপকে গেছেন।
বর্তমানে স্নেহা দে একজন অত্যন্ত একনিষ্ঠ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইউপিএসসি প্রত্যাশী। প্রিলিমিনারির এই সাফল্যের পর তিনি এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে পরবর্তী মেইন পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একজন আইএএস অফিসার হয়ে দেশের প্রশাসনিক স্তরে কাজ করা এবং ত্রিপুরার তথা দেশের আপামর কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা।
ছোট শহর থেকে উঠে এসে, কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য ছাড়াই স্নেহা যেভাবে দেশের শীর্ষ স্তরের পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন, তা ত্রিপুরার হাজার হাজার সিভিল সার্ভিস চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। স্নেহার এই কৃতিত্বে আজ বিলোনিয়া, খোয়াইয়ের মতো কৈলাসহর তথা সমগ্র ত্রিপুরাবাসী গর্বিত।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*