সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২০ নভেম্বর || গন্ডাছড়া মহকুমার দুর্গাপুর গ্রামে এক নেশাগ্রস্ত যুবকের চুরি-দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। বৃহস্পতিবার গন্ডাছড়া বাজারের সাপ্তাহিক হাট থেকে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে চোর দেখতে পান স্বামীহীন বিধবা অঞ্জলি দাস। তাঁর অভিযোগ, গন্ডাছড়া নারায়ণপুর চৌকিদার পাড়ার রমেন ত্রিপুরাই ওই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। চিৎকার শুনে সে পালিয়ে যায় বলে জানান অঞ্জলি। খবর পেয়ে গন্ডাছড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
অঞ্জলি দাসের দাবি—রমেন তাঁর ঘর থেকে ৪ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের আলোয় বাড়িতে ঢুকে চুরি করা রমেনের কাছে নতুন কিছু নয়। দুর্গাপুর গ্রামের শিক্ষক দীপক সাহার বাড়িতেও এর আগে দিনের বেলাতেই হাত সাফ করেছিল একই যুবক। কয়েকদিন আগে পুলিশ তাকে আটক করলেও মেডিকেল পরীক্ষার সময় সে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় বলেই জানা গেছে।
রমেন ত্রিপুরার ত্রাসে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মহিলাদের অভিযোগ—পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা থানা ঘেরাওয়ে নামবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গন্ডাছড়া বাজার এলাকার কয়েকজন মুখোশধারী ভদ্রলোক ও কিছু ব্যবসায়ী রমেনের চুরি করা সামগ্রী কম দামে কিনে তাকে উৎসাহিত করছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন গ্রামবাসী। সম্প্রতি দীপক সাহার বাড়ির চার বস্তা নারিকেল চুরি করে রমেন অন্য মহকুমা থেকে আসা এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছে—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। ওই ব্যবসায়ীর দোকান গন্ডাছড়া নতুন বাজার সেটের উল্টো দিকে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর আহ্বান—নেশাগ্রস্ত যুবক রমেন ত্রিপুরার অত্যাচার থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রশাসন যেন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
