পর্যটনের নতুন দিগন্তে ত্রিপুরা: উত্তর-পূর্বে ২১ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগে দ্রুত বদলে যাচ্ছে উন্নয়ন-পরিকাঠামো, জানালেন ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ নভেম্বর || উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন-উন্নয়নে ত্রিপুরা এখন অন্যতম গুরুত্বের কেন্দ্রে—এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া। তাঁর মতে, ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যে পর্যটন আজ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রদর্শনী নয়, বরং অঞ্চলটির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। পর্যটন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দক্ষতার পরিসর বহুগুণ বৃদ্ধি পায়—এই যুক্তিতেই ডোনার মন্ত্রণালয় পর্যটনকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন সার্কিট—আগরতলা, নীরমহল এবং ছবিমুড়া। রাজ্যের ঐতিহ্য, মন্দির, জলদুর্গ ও রক-কাট শিল্পকে কেন্দ্র করে এই সার্কিটকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ ত্রিপুরার পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
বর্তমানে ডোনার মন্ত্রণালয় উত্তর-পূর্বে মোট ২১ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার ৬৬টি পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। অরুণাচল, অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, ত্রিপুরা ও সিকিম—প্রতিটি রাজ্যে তৈরি হচ্ছে পৃথক মডেল পর্যটন সার্কিট, যা ভবিষ্যতের জন্য টেকসই এবং সম্প্রদায়-নির্ভর পর্যটন কাঠামো গড়ে তুলবে।
মন্ত্রী বলেন, পর্যটন বৃদ্ধির প্রকৃত ভিত্তি হল শক্তিশালী পরিকাঠামো। সড়ক, হাইওয়ে, বিমানবন্দর উন্নয়ন এবং উদান প্রকল্পের ফলে উত্তর-পূর্ব এখন আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি সংযুক্ত। এরই সুফল পাচ্ছে ত্রিপুরা—নতুন বিমানসংযোগ, সড়ক উন্নয়ন ও পর্যটন স্থাপনার আধুনিকায়নে রাজ্য হয়ে উঠছে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য।
স্বদেশ দর্শন প্রকল্পে অঞ্চল পেয়েছে ১৩০৯ কোটি টাকা, আর ‘প্রসাদ স্কিমে’ ধর্মীয় পর্যটন গড়ে তুলতে ব্যয় হচ্ছে ২৫৫ কোটি টাকা। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন ত্রিপুরার ত্রিপুরা সুন্দরি মন্দিরের পুনর্নির্মাণকে, যা ভবিষ্যতে বড় ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর-পূর্বের উৎসব ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, শিলং চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল এবং আসন্ন নাগাল্যান্ডের হর্নবিল ফেস্টিভ্যাল আজ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরছে। স্থানীয় যুবদের কর্মসংস্থান, হোমস্টে, হস্তশিল্প, সংগীত ও খাবারের ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই এই উৎসবগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
বার্তার শেষে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানান, উত্তর-পূর্বের মানুষ, তাদের সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের এক অমূল্য সম্পদ। ত্রিপুরা-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব এখন বিশ্বের সামনে নতুনভাবে উঠে আসার জন্য প্রস্তুত। পর্যটনের মাধ্যমে অঞ্চলটি আগামী দিনে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উন্নতির এক উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করবে—এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*