ত্রিপুরায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শুরু হচ্ছে BHMS কোর্স

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৭ অক্টোবর || ত্রিপুরার চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। আগরতলায় ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল (TGHMC & NSHH)-এর মাধ্যমে রাজ্যে সরকারি পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের দীর্ঘ যাত্রা এবার মেডিকেল শিক্ষার পরিসরে প্রবেশ করছে।
মোট ৪.০১ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসা শিক্ষা, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে একই পরিসরে একত্রিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিওপ্যাথি (NCH)-এর কাছ থেকে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে Bachelor of Homoeopathic Medicine and Surgery (BHMS) কোর্স চালুর জন্য Letter of Permission (LoP) পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি নিয়ম ও কাউন্সেলিং নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ৯টি আসন সর্বভারতীয় কোটার জন্য এবং ৫১টি আসন রাজ্য কোটার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ত্রিপুরার সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁদের পরিষেবা বিস্তৃত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHC), ১২টি কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (CHC), ১১টি মহকুমা হাসপাতাল (SDH), ৮টি আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার (UPHC), ৫২টি AAM-AYUSH সেন্টার এবং ৩টি ইন্টিগ্রেটেড AYUSH হাসপাতাল। এর ফলে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় হোমিওপ্যাথির পরিসরও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইউরোপে স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের পথপ্রদর্শক কাজ থেকে শুরু করে বাংলায় হোমিওপ্যাথির বিকাশ এবং ত্রিপুরায় দীর্ঘদিনের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পরিষেবা—এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই প্রতিষ্ঠান শুধু ভবিষ্যতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রেই নয়, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল রোগীদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা অব্যাহত রাখবে।
জ্ঞান, চিকিৎসাগত দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে দক্ষ ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে TGHMC & NSHH আগামী দিনে ত্রিপুরার চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*