সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৬ নভেম্বর || সমাজের মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মাত্র সাত বছরের এক শিশু। ত্রিপুরার গন্ডাছড়ার নারায়ণপুরের বাসিন্দা অভিজিৎ রুদ্র পালের কন্যা অদ্রিজা পাল—যাকে এখন এলাকার মানুষ স্নেহভরে ডাকছেন ‘ছোট্ট দেবদূত’—নিজের জন্মদিনের খরচ বাঁচিয়ে পাশে দাঁড়াল দুই সন্তানের অসহায় জননী সুস্মিতা সেনের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুটি কিডনি সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ায় শয্যাশায়ী সুস্মিতা সেন। আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর চিকিৎসাও। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে প্রথম শ্রেণির এই ছাত্রী দেখাল এক বিরল মানবিকতার পরিচয়। সপ্তম জন্মদিনে কোনও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান না করে, সাশ্রয়ের টাকা দিয়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সুস্মিতা সেনের বাড়িতে পৌঁছে যায় অদ্রিজা। সেখানে ফল, মিষ্টি ও কিছু অর্থ তুলে দেয় অসহায় মায়ের হাতে।
অদ্রিজার বাবা অভিজিৎ রুদ্র পাল জানান, “এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে অদ্রিজার নিজের। সে বলেছিল, জন্মদিনে আনন্দ করার চেয়ে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি আনন্দের।”
এক শিশুর এই মানবিক উদ্যোগ সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখায়—সহানুভূতি ও করুণা বয়স মানে না। অদ্রিজার এই পদক্ষেপ শুধু একটি সামান্য সহায়তা নয়, এটি মানবতার প্রতি এক উজ্জ্বল বার্তা। ছোট্ট মেয়ের এই উদ্যোগে আলোকিত হলো গন্ডাছড়ার নারায়ণপুর, উজ্জ্বল হলো মানবিক মূল্যবোধের প্রসার।
