পদ্মবিল ব্লকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও কাঁচের বর্জ্য সংগ্রহ: দূষণ রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ এপ্রিল || স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অঙ্গ হিসেবে রবিবার পদ্মবিল আরডি ব্লকের পক্ষ থেকে এক বিশেষ সাফাই অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই ব্লক এলাকা থেকেই ৪৮০.৬১ কেজি প্লাস্টিক বোতল এবং ৮০.৫০ কেজি কাঁচের বোতল সংগ্রহ করে খোয়াই টেরিটোরি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি মাত্র ব্লক থেকে যদি এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উদ্ধার হয়, তবে পুরো খোয়াই মহকুমা বা জেলা জুড়ে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা কল্পনা করাও কঠিন। প্লাস্টিক এমন এক উপাদান যা রোদে পোড়ে না বা মাটিতে মেশে না, ফলে এটি বর্তমানে প্রকৃতির জন্য এক মস্ত বড় ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠছে যে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার সরকারি নির্দেশিকা থাকলেও তার প্রয়োগ কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। বছরে এক-আধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু তদারকি বা ‘লম্ফঝম্প’ দেখা গেলেও, প্লাস্টিক ব্যাগ ও বোতলের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে প্লাস্টিক মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে প্রচার ও সচেতনতায় প্রচুর সরকারি ফান্ড বরাদ্দ করা হয়। এমনকি আগরতলার সিআইপিইটি (CIPET)-এর মাধ্যমে বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি এবং খোয়াইয়ে প্রক্রিয়াকরণ সেন্টারও রয়েছে। ত্রিপুরার বিখ্যাত বাঁশের বোতল উৎপাদনেও খাদি বোর্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— কেবল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কি সমস্যার সমাধান সম্ভব? জনগণের দাবি, প্লাস্টিক তৈরি বা উৎপাদনই যদি বন্ধ না হয়, তবে এর ব্যবহার রোখা অসম্ভব। দায় কেবল সাধারণ মানুষের ওপর না চাপিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কেন প্লাস্টিক উৎপাদন বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, তা নিয়ে এখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদতে প্রকৃতি রক্ষার এই লড়াইয়ে প্রশাসনের আন্তরিকতা কতটুকু, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*