খোয়াই-আগরতলা জাতীয় সড়ক এখন ‘লাইফ-রিস্ক’

গোপাল সিং, খোয়াই, ৩০ এপ্রিল || খোয়াই-আগরতলা ভায়া সুবলসিং জাতীয় সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে ‘লাইফ-লাইন’ নয়, বরং ‘লাইফ-রিস্ক’ বা জীবনঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এই সড়কের বেহাল দশা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভার একদিনের অধিবেশনে ‘জিরো আওয়ার’-এ সরব হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
জাতীয় সড়কের বেহাল দশায় আটকে থাকা গাড়ীতে বসেই বিধায়ক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, এই নির্মাণাধীন জাতীয় সড়কটির শোচনীয় অবস্থা নিয়ে তিনি ইতিপূর্বে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং গত বিধানসভা অধিবেশনেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও রাস্তার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টে প্রতিদিন এই খানাখন্দভরা রাস্তা দিয়ে ১৫-২০টি অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করে, যা মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকেও প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
রঞ্জিত দেববর্মা আরও উল্লেখ করেন, এই সড়কটি খোয়াই থেকে আগরতলা সংযোগের প্রধান মাধ্যম। শুধু খোয়াই নয়, কমলপুর ও কৈলাসহরের জনগণও এই পথ ব্যবহার করেন। বর্ষার পূর্ণ মরশুম শুরু হওয়ার আগেই যদি রাস্তার এই দশা হয়, তবে বর্ষায় জনজীবন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাস্তার ভয়াবহতার এক বাস্তব চিত্র বুধবার খোদ বিধায়কের চলাচলের সময়ই ফুটে ওঠে। এদিন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার গাড়িটিও সড়কের কাদায় আটকে পড়ে। চালক দীর্ঘক্ষণ আপ্রাণ চেষ্টা করার পর কোনোক্রমে গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। রাজ্যের জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দ্রুত সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল বিধানসভায় জোরালো সওয়াল করবেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই ‘মরণফাঁদ’ থেকে জনতাকে মুক্তি দিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*