গোপাল সিং, খোয়াই, ৩০ এপ্রিল || খোয়াইবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও খোয়াই-আগরতলা ভায়া সুবলসিং জাতীয় সড়কের বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে বরাবরই সরব হতে দেখা গেছে তাঁকে। কথা ছিল বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে এই ইস্যুটি তিনি তুলবেন। কিন্তু বিশেষ অধিবেশনের কারণে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা তা উত্থাপিত করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই তা সরাসরি নাকচ করে দেন অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া। ফলে পবিত্র বিধানসভায় খোয়াইবাসীর নিত্যদিনের জীবনঝুঁকির এই করুণ চিত্র তুলে ধরতে পারলেন না বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়ে সরব হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ সেই প্রস্তাব খণ্ডন করে দেওয়ায় জনগণের এই মৌলিক সমস্যাটি আলোচনার সুযোগ পায়নি। উল্লেখ্য, গতকালই বিধায়ক জানিয়েছিলেন যে এই সড়কটি এখন ‘লাইফ-রিস্ক’-এ পরিণত হয়েছে এবং বর্ষার আগে এর সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। আজ বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনের কারণে তা তিনি উত্থাপন করতে না পারায় রঞ্জিত দেববর্মা কিছুটা হতাশা হয়ে পড়েন।
এদিনের বিশেষ অধিবেশনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘নারী সংরক্ষণ বিল’। এই বিলটি নিয়ে বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। তিপ্রামথা পার্টির পক্ষ থেকে এই সংরক্ষণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয় এবং দলের বিধায়করা দাবি করেন যে, এই ব্যবস্থাটি যেন কালবিলম্ব না করে দ্রুত কার্যকর করা হয়। নারী সংরক্ষণ বিলের ওপর আলোচনায় তিপ্রামথা পার্টির চারজন বিধায়ক তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন। তাঁরা নারী ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি এর দ্রুত রূপায়নের দাবি জানান। জনজাতি অংশের মহিলাদের অধিকার সুনিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
জাতীয় সড়ক নিয়ে আলোচনা না হলেও নারী সংরক্ষণ ইস্যু নিয়ে বিধানসভা সরগরম ছিল। তবে খোয়াইয়ের জাতীয় সড়কের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কীভাবে প্রশমিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই গেল।
