প্রদ্যুৎ কিশোরের হুঙ্কার: বিজেপি’র ‘পার্টি পাওয়ার’কে হারাবে রাজার ‘জাতি পাওয়ার’, নিজ বিধানসভা কেন্দ্রেই অনুপস্থিত অনিমেষ

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ এপ্রিল || আশারামবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে পার্টি সুপ্রিমো প্রদ্যুতের জনসভায় অনুপস্থিত খুদ বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। গুঞ্জনেই কি শিলমোহর? প্রশ্ন জনগণের। এত বড়ো জনসভায় নাম না করে অনিমেষ দেববর্মাকেই কি বিঁধলেন প্রদ্যুত? এনিয়ে জনমনে গুঞ্জন অব্যহত।
আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অত্যন্ত জটিল ও উত্তপ্ত। বুধবার খোয়াই চাম্পাহাওড়ের ভারত সর্দার দ্বাদশ শ্রেণি স্কুল মাঠে কুলাই-চাম্পাহাওড় কেন্দ্রের তিপ্রামথা পার্টি মনোনীত প্রার্থী রাজেশ্বর দেববর্মার সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিপ্রামথা পার্টি সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মা বর্তমান রাজ্য সরকার, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা এবং দলের ভেতরের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদ্যুৎ মাণিক্য দেববর্মা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে চার্জশিট হবে, কিন্তু বাস্তবে একের পর এক চার্জশিট করা হচ্ছে শরিক দল তিপরা মথার বিরুদ্ধে। ককবরক ভাষার রোমান স্ক্রিপ্ট প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ১০০ বছর পর্যন্ত রোমান স্ক্রিপ্ট দেওয়া হবে না, অথচ বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করা হয়েছে রোমান স্ক্রিপ্টেই। আমরা জুমলা চাই না, প্রতিশ্রুতি পূরণ চাই।”
এদিন প্রদ্যুৎ কিশোরের বক্তব্যে সবচাইতে বড় চমক ছিল দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে তাঁর সরাসরি আক্রমণ। কারোর নাম না করে তিনি অভিযোগ করেন, তিপ্রামথা পার্টির কিছু নেতা এখন বিজেপির সাথে আসন ভাগাভাগি করার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রদ্যুৎ বলেন, “সেই লিডাররা বলছেন বিজেপির সাথে ১৪-১৪ আসন ভাগাভাগি করলে অনেক টাকা ও পাওয়ার মিলবে। কিন্তু সাধারণ জনগণের কথা প্রদ্যুৎ না ভাবলেও লিডাররা দেখে নেবেন। এমনকি অ্যালায়েন্স না করলে দল ভেঙে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, তিপ্রামথা পার্টির বিধায়ক (অনিমেষ দেববর্মার দিকে ইঙ্গিত করে) হয়েও অনেকে বিজেপির হয়ে প্রচার করছেন। তবে পার্টি তাঁদের সংশোধনের একটি সুযোগ দেবে বলে তিনি জানান।
জনসভায় এক নজিরবিহীন ঘটনায় প্রদ্যুৎ কিশোর নিজের মোবাইলের মাধ্যমে মাইক্রোফোনে মুখ্যমন্ত্রীর একটি ভয়েস রেকর্ড জনতাকে শোনান। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “যত তিপ্রাসানো হামমাগো! (হামজাগো হবে) হ্যাপি!” অর্থাৎ তিনি জনজাতিদের ভালোবাসেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রদ্যুৎ বলেন, একদিকে আছে মুখ্যমন্ত্রীর ‘পয়সা পাওয়ার’, অন্যদিকে আছে রাজার ‘জাতি পাওয়ার’। এবারের নির্বাচনে ‘পার্টি পাওয়ার’কে ‘জাতি পাওয়ার’ হারাবে বলে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন।
বক্তব্যের শেষে তিনি এক গোপন সূত্রের খবরের কথা উল্লেখ করে জানান যে, আশারামবাড়ী কেন্দ্রে অশান্তি ও ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা হতে পারে। তবে তিনি কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং কোনো ধরণের মারধর বা হিংসায় না জড়ানোর আহ্বান জানান।
টিটিএএডিসি নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রদ্যুৎ কিশোরের এই কড়া অবস্থান এবং নিজ দলের নেতা ও শরিক দলের বিরুদ্ধে এমন আক্রমণাত্মক মনোভাব ত্রিপুরার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দুই কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী রাজেশ্বর দেববর্মা ও প্রশমিত দেববর্মা এবং ইএম সুহেল দেববর্মা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*