গন্ডাছড়ায় তীব্র পানীয় জল সংকট: ১২ দিন ধরে বন্ধ জল সরবরাহ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ০৭ মে || গন্ডাছড়া মহকুমার সদর এলাকায় গত প্রায় ১২ থেকে ১৩ দিন ধরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে পানীয় জল সরবরাহ। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে পানীয় জলের চরম সংকট— এই দ্বিমুখী সমস্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। জল সম্পদ দপ্তরের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলে মহকুমাজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন হরিপুর এলাকার প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পরিবার।
দপ্তরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ওভারহেড ট্যাংকে জল তুলে সরবরাহ চালু রাখতে মোট চারটি মোটরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র একটি মোটর। সেই একটিমাত্র মোটরের সাহায্যে নদী থেকে জল তুলে ট্যাংক পূর্ণ করতে গিয়ে প্রতি ১০ থেকে ১২ দিনে একবার কোনোমতে জল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে পানীয় জলের জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাজার থেকে জল কিনে ব্যবহার করছেন।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় এক বছর আগে ওভারহেড ট্যাংক পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি বেসরকারি সংস্থার সময় অফিস থেকে রহস্যজনকভাবে দুটি মোটর উধাও হয়ে যায়। অভিযোগ, দপ্তরের এসডিও মগ সাহেব বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সচেতন মহলের মতে, সঠিক তদন্ত হলে এই অন্তর্ধানের প্রকৃত রহস্য সামনে আসতে পারে।
হরিপুর এলাকার এক বাসিন্দার ক্ষোভ, “আর কত সহ্য করব? টেপে জল নেই। বাচ্চাদের জন্য দূর থেকে জল বহন করে আনতে হচ্ছে। দপ্তরে জানিয়েও কোনো সাড়া মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একাধিক সংবাদ প্রকাশ এবং দপ্তরে তালাবন্দি আন্দোলনের মতো ঘটনা ঘটলেও এখনো পর্যন্ত দপ্তরের মন্ত্রী কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, জল সম্পদ দপ্তরের এসডিওর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া না হওয়ায় অফিসটি কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে, হরিপুর ৩৩ কেভি এলাকার মিনি ডিপটিউবওয়েল থেকে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ৬০টি পরিবারকে জল সরবরাহের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সচেতন নাগরিক মহলের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দপ্তরের মন্ত্রী কিংবা জেলা শাসকের সরেজমিনে পরিদর্শন জরুরি। শুধুমাত্র অফিসে বসে আশ্বাস নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ওভারহেড ট্যাংক থেকে জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও দপ্তরের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গাড়ির মাধ্যমে জল সরবরাহেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*