গোপল সিং, খোয়াই, ০৭ জুন || ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ তৎপরতায় ফের বানচাল হয়ে গেল গবাদিপশু পাচারের একটি বড়সড় চেষ্টা। খোয়াই থানার পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়তার সাথে অভিযান চালিয়ে পাচারকারীদের হাত থেকে পাঁচটি চোরাই গবাদিপশু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। খোয়াই থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) কৃষ্ণধন সরকার আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে এই সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ২:৪০ মিনিটের পর খোয়াই থানার অন্তর্গত মরা নদীর পাড় এলাকা থেকে চারটি গবাদিপশু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল একদল চোর। সেই সময় খোয়াই থানার নাইট অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর (S.I) দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী তাঁর টিম নিয়ে দত্তবাড়ি এলাকায় নৈশকালীন টহলদারিতে ব্যস্ত ছিলেন। টহল দেওয়ার সময় তিনি দেখতে পান যে, চোরের দলটি ওই চারটি গরুকে টেনে-হিঁচড়ে বাংলাদেশ সীমান্তের অভিমুখে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশের গাড়ি সামনে চলে আসে। পুলিশকে দেখামাত্রই গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে পাচারকারী ও চোরের দল গরুগুলোকে ওখানেই ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মরা নদীর পার ধরে চম্পট দেয়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ওই চারটি গরুকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়ার জন্য থানায় নিয়ে আসে।
সকাল হতেই এই চুরির ঘটনার প্রকৃত মালিকের সন্ধান পেয়ে যায় পুলিশ। জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ওই চারটি গরুর মালিকের নাম সঞ্জয় গোপ, পিতা শ্রী মহাদেব গোপ। তিনি খোয়াই থানার অন্তর্গত মরা নদীর পাড় এলাকার বাসিন্দা। গবাদিপশু চুরির বিষয়টি পরিবারের নজরে আসার আগেই খোয়াই থানার পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে ফেলেছিল। উদ্ধার হওয়া এই চারটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই চুরির ঘটনার সূত্র ধরেই গভীর নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে আরও একটি গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই গরুটির মালিকের নাম চন্দন ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম চারটি গরু উদ্ধার করার সময়ই চোরদের তাড়া করতে এবং তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করার জন্য সীমান্তে মোতায়েন থাকা বিএসএফ (BSF)-কে অনতিবিলম্বে খবর দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএসএফ জওয়ানদের সক্রিয় সহযোগিতাতেই মরা নদীর একেবারে শেষ প্রান্ত থেকে এই পঞ্চম গরুটিকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়। খোয়াই থানার পুলিশের এই ঝটিকা তৎপরতার কারণে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলেন দু’জন গবাদিপশুর মালিক।
