গোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ আগস্ট || খোয়াই-আগরতলা (ভায়া সুবলসিং) এবং খোয়াই-কমলপুর জাতীয় সড়কসহ রাজ্যের প্রধান সড়কগুলোর ভয়াবহ অবস্থার প্রতিবাদে খোয়াইতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সিপিআই(এম) মহকুমা কমিটি। আজ, বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচীতে ডিওয়াইএফআই রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক এবং স্থানীয় বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস ডবল ইঞ্জিন সরকার ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিকেলে এনএইচআইডিসিএল (NHIDCL)-এর আগরতলা দপ্তরের সামনে ধরনা কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর “ত্রিপুরা রাজ্যের মাটি ভালো নয়” সংক্রান্ত সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তীব্র আক্রমণ করে পলাশ ভৌমিক প্রশ্ন তোলেন, “খোয়াই-আগরতলা ভায়া সুবলসিং পুরনো রাস্তা কিংবা উদয়পুর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত জাতীয় সড়ক তো ত্রিপুরার মাটি ও আবহাওয়া ব্যবহার করেই তৈরি হয়েছিল! তবে নতুন সড়কের ক্ষেত্রেই কেন মাটির দোহাই দেওয়া হচ্ছে?” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, গত ১লা জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির নেতৃত্বাধীন বৈঠকের পর রাজ্যে ফিরে পূর্ত দপ্তরের সচিব স্বয়ং প্রেসমিটে স্বীকার করেছেন যে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজের নিম্নমানের কারণেই এই বেহাল দশা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অযোগ্য ঘোষণা করে ছাঁটাই করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস জানান, কাজ শেষ হলেও ঠিকাদার সংস্থা কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে এবং ‘সাগর কনস্ট্রাকশন গ্রুপ’-কে বাতিল করা হয়েছে। রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকে থাকছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার যে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দিয়েছিলেন, তা দু’বছর পার হলেও পূরণ হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের আগে বামফ্রন্ট সরকার ও তৎকালীন মনমোহন সিং সরকারের আমলেই এই সড়কের মূল পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কেন্দ্র বিলম্বিত করে। তিনি আরও জানান, বিধানসভার ইষ্টিমেট কমিটিতে এই বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিশ উত্থাপনের কথা উল্লেখ করে বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস জানান, ২১শে জুলাই আগরতলায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর গত ২৪শে জুলাই দিল্লি থেকে আসা এনএইচআইডিসিএল-এর ইডির উপস্থিতিতে একটি প্রতিনিধি দল রাস্তা পরিদর্শন করে। সেখানে জানা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকেদারি সংস্থা ‘সাগর কনস্ট্রাকশন গ্রুপ’-কে বাতিল করা হয়েছে। রাস্তা চলাচলের যোগ্য করার দায়ভার নিতে এনএইচআইডিসিএল ও পূর্ত দপ্তর প্রথমে অনীহা দেখালেও পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে কিছুটা দায়িত্ব নিয়েছে।
