নবনির্মিত আম্রকুঞ্জ অতিথি ও বনবীথিস্থিত গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন

khw khw.jpg1গোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ ফেব্রুয়ারী ৷৷ বনবীথি উন্নয়ন কমিটি, পর্যটন দপ্তর, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে খোয়াই অফিসটিলায় শুভ উদ্বোধন হল আম্রকুঞ্জ অতিথি নিবাসের। রবিবার সকালে খোয়াই অফিসটিলায় নবনির্মিত এই পর্যটন দপ্তর কর্তৃক নির্মিত অতিথি নিবাসের উদ্বোধন করেন মন্ত্রি রতন ভৌমিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দত্ত, বিধায়ক পদ্মকুমার দেববর্মা, খোয়াই জিলা সভাধিপতি সাইনি সরকার, সহ-সভাধিপতি বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য, পর্যটন দপ্তর এবং পূর্ত্ত দপ্তরের প্রধান সচিব শ্রী লোকরঞ্জন, জেলা শাসক অপূর্ব রায়, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন শুক্লা সেনগুপ্তা প্রমুখ। পর্যটন
মন্ত্রি রতন ভৌমিক আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, একসময় এই অতিথি নিবাস এবং বনবীথি পর্যটন কেন্দ্র নির্মান করার বিষয়ে ভাবনায় ছিল পর্যটন দপ্তর। কিন্তু পরবর্তী সময় প্রয়াত বিধায়ক সমীল দেবসরকার সহ রাজ্য পর্যটন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে। কারন এর প্রয়োজনীয়তা খোয়াইতে কতটুকু রয়েছে তা নিয়ে সংশয় ছিল। যাইহোক আজ থেকে এটা চালু হচ্ছে। যার দায়িত্বে রয়েছে খোয়াই পুর পরিষদ। একসময় ত্রিপুরা রাজ্য খুব অনুন্নত ছিল। এখনও যে খুব একটা এগিয়ে তেমন না। এমনকি আমাদের রাজ্যকে ভারতবর্ষের মানুষ চিনেই না, এরকম একটা অবস্থা ছিল। এর জন্য ত্রিপুরাবাসীর কোন দায় নেই। এর জন্য দায়ী ভারত সরকারের নীতি বা দৃষ্টিভঙ্গী। আগামীদিনে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক মজবুত হবে ঠিকই কিন্তু ত্রিপুরাতে বড় শিল্প সম্ভাবনা ক্ষীন। সরকার কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে গিয়েই কিছু চাকুরী দেবে। কিন্তু কতটুকু। ত্রিপুরা রাজ্যে বেসরকারী চাকুরী সম্ভাবনা তেমন নেই। এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে যদি রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তবেই সুযোগ বাড়বে। আমাদের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান হবে। অপরদিকে বিধায়ক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, প্রকৃতির সম্পদ আজ ধ্বংস হতে চলছে। বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আম্রকুঞ্জ অতিথি নিবাসের গুরুত্ব অনেক। অতিথি নিবাসের পাশেই রয়েছে আম্রকুঞ্জ। তাই পর্যটন দপ্তরের সাথে দেশে অনেক পার্ক রয়েছে কিন্তু বনবীথি পার্ক পর্যটন মানচিত্রে স্থান করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এর বিশেষত্ব উপলব্ধি করা যায়। উল্লেখ্য বিকেলে বনবীথিস্থিত গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন হবে মন্ত্রি রতন ভৌমিকের হাত ধরে। মুলত দুটি প্রকল্পরেই উদ্বোধন হল একই দিনে। রবিবার বিকেলে খোয়াই ধলাবিল এলাকায় বনবীথিস্থিত গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল। ত্রিপুরা পর্যটন উন্নয়ন নিগম, বনবীথি উন্নয়ন কমিটি এবং তেলিয়ামুড়া গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বনবীথিস্থিত গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রি রতন ভৌমিক। একই সাথে উদ্বোধন হয়ে গেল ‘একান্তে’ ক্যাফেটেরিয়া, ‘পুষ্পহার’ মুক্তমঞ্চ ও গ্যালারি, ‘বরন ডালা’ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার এবং ১০টি কক্ষের ৫টি কটেজের। এই ৫টি কটেজকে বাহারি নামে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘চন্ডীদাস-রজকিনী’, ‘লয়লা-মজনু’, ‘রোমিও-জুলেয়েট’, ‘মাধব-মালঞ্চ’, ‘শুক-শারী’। এই প্রকল্পগুলির একে একে উদ্বোধন করেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দত্ত, বিধায়ক পদ্মকুমার দেববর্মা, খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি সাইনি সরকার, সহ-সভাধিপতি বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য্য এবং পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব লোকরঞ্জন, জেলা শাসক অপূর্ব রায়, পুর চেয়ারপার্সন শুক্লা সেনগুপ্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলি শেষে রাজ্যের এবং বহি:রাজ্যের শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
‘আমাদের রাজ্য সবুজে ভরা। অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ যা ভারতবর্ষের অনেক রাজ্যেই নেই। এই জায়গাগুলিকে ব্যবহার করে আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যে পর্যটন কেন্দ্র তৈরী করার চেষ্টা চলছে। রাজ্যের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকেও পর্যটন দপ্তর বিভিন্ন উন্নয়নমুলক নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলছে। এই কাজগুলি অনেক আগেই করা যেত। বহি:রাজ্যের পর্যটন আসতেন আমাদের রাজ্যে। রবিবার বিকেলে খোয়াই ধলাবিল এলাকায় বনবীথিস্থিত গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের নতুন পরিকাঠামোগুলির উদ্বোধন করে এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রি রতন ভৌমিক। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বনবীথি গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রের পথচলা শুরু হয়েছিল মুলত প্রয়াত বিধায়ক সমীর দেবসরকারের উৎসাহ-আকাঙ্খার ফলস্বরূপই। তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ তা সম্পূর্ণ বাস্তব রূপ পেল। পর্যটন দপ্তরের বিশেষ অর্থে ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা ব্যায়ে নতুন নতুন পরিকাঠামোগুলি যুক্ত হল এবং উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ৫ই ফেব্রুয়ারী দিন থেকেই সবার জন্য সেগুলি উন্মুক্ত হয়ে গেল। পর্যটন এবং পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব লোকরঞ্জন এদিনকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে বনবীথি পর্যটন কেন্দ্রকে সামনে রেখে সারা রাজ্যেই এধরনের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে করে একাজের সাথে যুক্তদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রি। অপরদিকে বিধায়ক বিশ্বজিৎ উনার আলোচনায় বলেন, এই গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের লোক আসেন। এই বনবীথি গড়ে তোলার সময় ধলাবিল এলাকার মানুষ অসংখ্য সাহায্য করেছেন। এই বনবীথি পর্যটন কেন্দ্রে শিশু-ছাত্র-যুব-বৃদ্ধ সকল অংশের, সকল স্তরের মানুষ ছুটে আসেন। বিশেষ করে ছাত্র-যুবদের কল্পনার জগতটাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এই বনবীথি পর্যটন কেন্দ্রটি।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*