আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ নভেম্বর ৷৷ ফের সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটল রাজ্যে। গত ২০ সেপ্টেম্বর মান্দাইয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হয়েছিল রাজ্যের তরুন সাংবাদিক শান্তনু ভৌমিক। এই ঘটনার ৬০ দিনের মাথায় ফের প্রকাশ্যে দিনের বেলায় সাংবাদিক হত্যা হল রাজ্যে। তবে এবার দুষ্কৃতিদের হাতে নয়, খোদ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (TSR) জওয়ানের হাতে।মঙ্গলবার বোধজংনগর থানার অন্তর্গত আর কে নগর টি এস আর দ্বিতীয় ব্যাটিলিয়ানের হেড কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন স্যন্দন পত্রিকার সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিক। সেখানেই রহস্যজনক ভাবে টি এস আর দ্বিতীয় ব্যাটিলিয়ানের জওয়ান নন্দু রিয়াং তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিকের। জানা যায়, তার মৃতদেহ আগরতলা জিবি হাসপাতালে রেখে চলে যায় টি এস আর বাহিনী।
ঘটনার খবর পেয়ে আগরতলা জিবি হাসপাতালে ছুটে যায় স্যন্দন পত্রিকার সম্পাদক সুবল কুমার দে, বরিষ্ট সাংবাদিক প্রনব সরকার, রাজ্যের নবীন ও প্রবীন সাংবাদিকরা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সংবাদ মহল সহ রাজনৈতিক মহলে। বর্তমানে নিহত সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিকের দেহ জিবি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য। নিহত সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিকের মা শোকে পাথর। গোটা এলাকায় শোকের আবহ।
খবর পেয়ে জিবি হাসপাতাল মর্গে ছুটে যান বিজেপি’র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) রামলাল গুপ্ত। তিনি রাজ্য সফরে এসেছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়াও মর্গে ছুটে যায় বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব, সহ-সভাপতি সুবল ভৌমিক, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ, আশিষ কুমার সাহা, দিলীপ সরকার সহ বিজেপি নেতৃত্বরা। রাজ্যের সংবাদ মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্বদের তরফে সকলেই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাতে নিহত সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিকের বাড়িতে যান রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ভানুলাল সাহা। তিনি তার পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিক ছিলেন রাজ্যের সংবাদ জগতের প্রাণপুরুষ দৈনিক সংবাদ পত্রিকার প্র্যাত সাংবাদিক ভূপেন দত্ত ভৌমিকের ভাইপো।
