সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১১ জুন || নিজের জন্মদাতা পিতা ও সৎ মায়ের জ্বালা যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে বর্তমানে নিজের মামার বাড়িতে আশ্রয় নিল এক নাবালিকা মেয়ে। নির্যাতিতা মেয়েটির বাড়ি ধলাই জেলার আমবাসা এলাকার রাখাল টিলা জয়ন্তী পাড়াতে। জানা যায়, মেয়েটির পিতা তথা বিজয় নমঃ শূদ্রের সাথে তেলিয়ামুড়া থানাধীন নেতাজি নগর এলাকার নিবাসী মহেশ সরকারের মেয়ে যমুনা সরকারের সাথে বিয়ে হয় সামাজিক রীতিনীতি মেনে। দেড় বছরের মেয়ে তথা জয়া নমঃ শূদ্রকে রেখে যমুনা সরকার (নমঃ শূদ্র) মারা যায় বিনা চিকিৎসার কারণে। পরে শুক্লা নমঃ শূদ্র নামে আরেক মহিলাকে বিয়ে করে নির্যাতিত নাবালিকার পিতা বিজয়। আর তারপর থেকেই শুরু হয় নির্যাতিতা তথা জয়া নমঃ শূদ্রের উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নাবালিকা মেয়ে টি নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে এক সময় একপ্রকার বাধ্য হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করে বলে জানা যায়। কিন্তু মন তাতে সায় দেয়নি। পরে রীতিমত বাধ্য হয়ে বাবা ও সৎ মায়ের থেকে পাওয়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করে এতদিন চলে আসছিল ওই নাবালিকা মেয়েটি। এমন দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়েও মেয়েটি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে। একবেলা ভাত খেলে অন্য বেলা গ্রাম ঘুরে যা পেত তা খেয়েই জীবন ধারণ করত সে। এমনকি ফলের মৌসুমে ফল খেয়ে ও জীবন ধারণ করার প্রয়াস চালিয়ে গেছে ওই নাবালিকা মেয়ে টি। এমনকি স্কুলের মিড ডে মিল খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে ওই মা মরা নাবালিকা মেয়েটির। এমন অনেক দিন গেছে নিজের বাড়ির রান্না ঘর থেকে খাবার চুরি করে খেতে হয়েছে মা মরা নাবালিকা মেয়েটির। তারপরও বাবার হাত থেকে রক্ষা পায়নি ওই মেয়েটি। একদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভের এক ছেলে এক মেয়েও রয়েছে বিজয়ের। নিজের সন্তানদের দুধ ভাত খাইয়ে বড় করে থাকলেও সৎ মেয়ের ভাগ্যের ঝুলিতে জুটেছে কেবলমাত্র লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, অপমান, অবহেলা। তারপরেও নাবালিকা মেয়েটি লোকলজ্জার ভয়ে নিজের নির্যাতনের কথা কারো কাছে প্রকাশ করেনি। সবার খাবারের থালি মাছ-মাংস থাকলেও মেয়েটির ভাগ্যে কিন্তু জুটেছে পুরা চাচি পুরা ভাত। ছোটবেলা থেকেই ভাত চাইলে পেতে হতো ঝাটার বাড়ি বলে জানায় মেয়েটি।
এদিকে নির্যাতিতা নাবালিকা মেয়েটির তেলিয়ামুড়াস্থিত মামার বাড়ির পরিবারের সদস্যরা খুবই অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকায় নির্যাতিতার মাসি কাজের জন্য বহিঃরাজ্যে চলে যায়। মেয়েটির দাদু দিদা বৃদ্ধ। দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে নির্যাতিতা মেয়েটির মাসি দিপালী সরকার বাড়িতে আসে। বাড়ি এসে নিজের বোনের মেয়ে জয়া’র খোঁজখবর নিতে আমবাসাস্থিত নির্যাতিতা মেয়েটির বাড়িতে যায়। তার মুখ থেকে সব কথা শুনে মেয়েটিকে মেয়েটির মামার বাড়ি তেলিয়ামুড়াতে নিয়ে আসে। বর্তমানে নির্যাতিতা মেয়েটির পাষণ্ড পিতা বিজয় বার বার ফোন করে হুমকি দিতে থাকে মেয়েটিকে যেন মেয়েটির পাষণ্ড পিতা বিজয়ের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু মেয়েটি তার বাবার কাছে থাকতে নারাজ।
