সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৯ জুলাই || ক্রমাগত হাতির আক্রমণে নাজেহাল তেলিয়ামুড়া এলাকার জনগণ। প্রতিনিয়ত তেলিয়ামুড়া থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বন্যহাতির ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বনদপ্তর একপ্রকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় বলা চলে। তার পাশাপাশি ২৯-কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন এবং মাই গঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন তেলিয়ামুড়া থানাধীন ডিএম কলোনি এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ বন্য হাতির দল তান্ডব চালিয়ে আসছিল এই বন্যহাতির তাণ্ডবের ফলে এক প্রকার নাজেহাল ওই এলাকার জনজীবন। শুক্রবার গভীর রাতে ফের বন্যহাতির তাণ্ডব চালায় তেলিয়ামুড়া থানাধীন দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মাইগঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন তেলিয়ামুড়া ডিএম কলোনি এলাকায়। এই বন্যহাতির তাণ্ডবের ফলে ওই দুইটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বসবাসকারী পাঁচজনের বসতঘর সহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রচন্ড পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা যায়। তৎসঙ্গে তাদের বসত বাড়ি ঘর ওই বন্য হাতির দলের তাণ্ডবের ফলে ভেঙ্গে ফেলে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা যায়। যে পাঁচজন বসবাসকারী লোকের বসতঘরসহ নানা সামগ্রী নষ্ট হয় তাদের নাম হলো সুশীল সরকার, রসবালা সরকার, কালাচান সরকার, গুরুচাঁদ সরকার এবং কৃষ্ণেন্দু রায়। এই পাঁচজনের বসতঘর ভাঙচুর চালায় এই হাতির দল। তৎসঙ্গে উনাদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী আক্রমণের ফলে নষ্ট হয় বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনেরা। ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আরো অভিযোগ, প্রায় সময়ই বন্য হাতির দল তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এর ফলে আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে ওই এলাকার স্থানীয় লোক জনদের। কিন্তু বারবার তেলিয়ামুড়া বনদপ্তরকে এই ব্যাপারে অবহিত করা হলেও তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর কোন ভূমিকা গ্রহণ করে না বলে ওই এলাকার স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। এদিন গভীর রাতে এই বন্য হাতির আক্রমণের সময় তেলিয়ামুড়া বনদপ্তরে ডিএম কলোনি এলাকার স্থানীয় লোক জনেরা বার বার ফোন করলেও বনদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে ওই এলাকার স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। ক্রমাগত এই আক্রমণের ফলে এক প্রকার নিঃস্ব এই এলাকার লোকজন। আগামী দিনগুলিতে এইসব এলাকাগুলিতে হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে তেলিয়ামুড়া বনদপ্তর যেন উপযুক্ত ভূমিকা গ্রহণ করে এই অভিমত ব্যক্ত করেন ওই এলাকার স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনেরা।
