সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২৮ নভেম্বর || তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের ১৫টি আসনের মধ্যে ১৫টি আসনেই বাজিমাত বিজেপি’র।ত্রিমুখী লড়াই ছিল তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের নির্বাচনে। প্রচারের শুরু থেকেই শাসক দল বিজেপি’র প্রচারের হাওয়া ক্রমান্বয়ে তেজী হচ্ছিল, যদিও তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডেই সমানে সমানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের আবড় পরিলক্ষিত হচ্ছিল।
গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই পুর নির্বাচনকে নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে আসলেও তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের নির্বাচন ছিল সর্বাত্মক, ৮৫% ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দান করেছে তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই।
এদিন ভোট গণনা হয় তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক তথা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। ঘড়ির কাঁটায় ৮টা বাজতেই গণনার কাজ শুরু হতে থাকে, যত বেলা বাড়তে থাকে একে একে ফলাফল বিজেপির দিকে ঝুঁকতে থাকে। দিনের শেষে ভোটের ফলাফলের নিরিখে ১৫টা ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিই বিজেপির দখলে গেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের নির্বাচনে সিপিআই(এম)কে পেছনে ফেলে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে। দু’একটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি’র মধ্যে সমানে সমানে লড়াই হয়েছে।
তেলিয়ামুড়া পুরো পরিষদে বিজেপির নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন-
১ নম্বর ওয়ার্ডে অপর্ণা শীল, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মধুসূদন রায়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বরুনা ঋষি দাস, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মালাশ্রি সাহা (পাল), ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিমল রক্ষিত, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাবলি মজুমদার ( রায়), ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রূপক সরকার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রিঙ্কু ভৌমিক দেব, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শংকর ঘোষ, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নিশা রানী সূত্রধর, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অচিন্ত্য ভট্টাচার্যী, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে স্বপ্না চৌধুরী (দাস), ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইন্দ্রজিত দাস, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রঞ্জন মালাকার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিতিন কুমার সাহা।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই বিজেপি’র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক অনাবিল আনন্দের পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়। গণনা কেন্দ্রের সামনে অগণিত কর্মী-সমর্থকরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং গেরুয়া আবিরে একে অপরকে রাংগিয়ে দেন। এই অভূতপূর্ব জয়কে গণতন্ত্রের জয় বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় বিধায়িকা কল্যাণী রায়, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন আগামী দিনে নবনির্বাচিত তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ তেলিয়ামুড়া পুর এলাকার উন্নয়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।সেই সাথে সাথে তিনি এলাকার শান্তি সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রত্যেকের প্রতি অনুরোধ রাখেন।
এদিনের এই গণনা চলাকালীন সময়ে অগণিত কর্মী সমর্থকদের সাথে স্থানীয় বিধায়িকা কল্যাণী রায় ছাড়াও ছিলেন কল্যাণপুর এর বিধায়ক পিনাকি দাস চৌধুরী, বিজেপি’র তেলিয়ামুড়া মন্ডল সভাপতি রঞ্জিত সূত্রধর, কল্যাণপুর মন্ডল সভাপতি জীবন দেবনাথ সহ অন্যান্যরা। গননাকে ঘিরে প্রশাসনের তরফ থেকে তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। গণনা কেন্দ্রের বাইরে ভেতরে এবং তেলিয়ামুড়া শহরে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়। গননাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ নেই।
