গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ জানুয়ারি || ৭৭তম ঐতিহাসিক জনশিক্ষা দিবস উদযাপন কর্মসূচীর অংগ হিসেবে রবিবার খোয়াইয়ে উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের উদ্যোগে জমায়েত হয়েছে। সি পি আই (এম)’র জেলা কার্য্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত জমায়েতে বিভাগের বিভিন্ন প্রান্তের নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি হরেন্দ্র দেববর্মা ছিলেন সভাপতি। বক্তব্য রাখেন সি পি আই (এম)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অঘোর দেববর্মা, জি এম পি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রন্জিৎ দেববর্মা, বিভাগীয় সম্পাদক সুবোধ দেববর্মা ও সারা ভারত কৃষক সভার জেলা সভাপতি আলয় রায়। জমায়েতে জনশিক্ষা আন্দোলনের পাঁচ জন প্রবীণ নেতাকে পুষ্পস্তবক ও শালচাঁদর দিয়ে সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। চাম্পাহাওর সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্রের শিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশন করেন। জমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অঘোর দেববর্মা বলেন, অতীত দিনে রাজন্য শাসিত ত্রিপুরায় ১৮৪জন রাজা সাড়ে তেরশো বছর রাজত্ব করেছেন। রাজারা উপজাতি হলেও তখন উপজাতিদের জন্য কোন কাজই তারা করেনি।উপজাতিদের শিক্ষার কোন সুযোগ ছিল না।ভাষার কোন বিকাশ হয়নি। উপজাতিদের কাজের ব্যাবস্থা হয়নি। রুজি রোজগারের ব্যবস্থা ছিল না। অন্ন বস্ত্র বাসস্থান কিছুই ছিল না। পানীয় জলের পরিষেবাও ছিল না। বিকাশ ঘটেনি কৃষি ও শিল্পের।
অঘোর দেববর্মা বলেন, উপজাতি রাজারা ককবরক ভাষার উন্নতি তো দূরের কথা, ককবরক ভাষায় কথাই বলতেন না।আর প্রদ্যোৎ কিশোর তো উপজাতিদের কৃষ্টি সংস্কৃতিই জানেনা।তিনি তো ককবরক ভাষায় কথাই বলেন না।রাজ্যের উপজাতিদের অতীত দিনের দুর্দশার কথা কি তিনি জানেন? অতীত দিনের ঐতিহাসিক জনশিক্ষা দিবসের ইতিহাস, তিতুন প্রথা উচ্ছেদ আর কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতি অবসানের আন্দোলনের ইতিহাস তিনি জানেন কি?
তিনি বলেন, আজ যারা মথা মথা বলে বুবাগ্রার পেছনে পেছনে ছুটছেন, তারা বিভ্রান্তির শিকার। সেদিনের উপজাতিদের দুর্দশার কথা আজকের দিনের ছাত্র যুব সহ বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিয়ে যেতে হবে। রাজতন্ত্র উপজাতিদের চরম সর্বনাশ করে গেছে।আজকে যে প্রদ্যোৎ কিশোর উপজাতিদের জন্য মায়াকান্নায় বুক ভাসিয়ে দিয়ে গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের স্বপ্ন ফেরী করে বেড়াচ্ছে, তার কাছে জিজ্ঞাসা করুন, তার পূর্বপুরুষ রাজারা উপজাতিদের জন্য কি কাজ করে গেছেন?
অঘোর দেববর্মা বলেন, আই পি এফ টি বলেছিল তিপ্রাল্যান্ড। মথা বলছে গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড। আসলে উপজাতিদের স্বার্থরক্ষা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। নিজেদের আখের গোছানোই মূল উদ্দেশ্য। মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চায় ওরা।তিপ্রাল্যান্ড যদি ওদের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ছেচল্লিশ মাসে কেন বিধানসভায় আইন পাশ করলো না? কেন ক্যাবিনেট সভায় আলোচনা নেই? এ ডি সি’তে তো মথার রাজত্ব। জিজ্ঞাসা করুন তো, এ ডি সি’তে কি কাজ হয়েছে গত কয়েক মাসে? কিছুই হয় নি। বরং বামফ্রন্টের সময়ের যা কিছু হয়েছে, তার ধ্বংসপ্রাপ্তি হচ্ছে। রাজ্যে তো বি জে পি – আই পি এফ টি জোট সরকার, উপজাতিদের জন্য কি কর্মসূচী? আই পি এফ টি’র কি ভূমিকা? কোথায় কাজ খাদ্য? উপজাতিদের চরম দুর্দশায় দুই মন্ত্রীর কি ভূমিকা? ওরা তো মন্ত্রীত্বের স্বাদ ভোগ করছেন।
তিনি বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই তো উপজাতিদের প্রকৃত উন্নয়ন শুরু হয়। এ ডি সি গঠন হয়। উপজাতি এলাকায় সার্বিক বিকাশ ঘটে।স্বাস্হ্য পরিষেবার ব্যাবস্থা হয়। কৃষির বিকাশ ঘটে।শিক্ষার বিকাশ ঘটে।বামফ্রন্ট ছাড়া আর কে করেছে উপজাতিদের উন্নয়ন?অঘোর দেববর্মা বলেন, জনশিক্ষা আন্দোলন তো হয়েছিল শিক্ষার জন্য।উপজাতিদের অশিক্ষা কুশিক্ষা কুসংস্কার দারিদ্র্য অন্ধবিশ্বাস ইত্যাদির অবসানের জন্য। সেদিন যদি রাজারা এসব কাজ করতো, শিক্ষার ব্যাবস্থা যদি করতো, স্বাস্থ্য পরিষেবা যদি হতো, কৃষির বিকাশ যদি হতো, তাহলে তো আজকে উপজাতিরা আরো এগিয়ে যেতে পারতো।জনশিক্ষা আন্দোলনের তো কোন দরকার পড়তো না।
তিনি বলেন, আজ যখন শিক্ষার বেসরকারীকরণের কর্মসূচী নেয় বি জে পি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার, তখন চুপ কেন আই পি এফ টি কিংবা তিপ্রা মথা? আজ গণতন্ত্র আক্রান্ত।
তিনি বলেন, তাই আজ মূল কাজ হলো রাজ্যের গণতন্ত্র পুণরুদ্বার করা। অতীতের ঐতিহাসিক জনশিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাসের অনুসরণ করেই আমাদেরকে গণতন্ত্র পুণরুদ্বার করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে অতীত দিনের ইতিহাস জানাতে হবে।
